এমএ আউয়াল আশিক:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের কাকালদি মৌজার একটি জলাশয় সংক্রান্ত জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মানহানি ও ভাঙচুরের অভিযোগ তুলেছেন স্পেন প্রবাসী শাহ আলম।
বৃহস্পতিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শাহ আলমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার বাংলাদেশ সাইটের ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, প্রায় দুই বছর আগে কাকালদি মৌজার জেএল নং–১১৭, আরএস দাগ নং–১৭৭, ১৭৮ ও ১৭৯ এর আওতাধীন পুকুরের অংশ থেকে ১৪ শতাংশ ৩ অযুতাংশ জমি বৈধভাবে ক্রয় করে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা হয়। পরে গত বছরের ২৪ এপ্রিল নামজারি সম্পন্ন হয়। এছাড়া একই পুকুর সংশ্লিষ্ট আরও ৯টি দাগের মোট ৯৭ শতাংশ ৮২ অযুতাংশ জমির জন্য বায়না দলিল করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উক্ত জমির বায়না করা হয়েছে মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মধ্য মালবদিয়া গ্রামের শেখ মোহাম্মদ রউফ, সোহাগ শেখ ও নয়ন শেখের কাছ থেকে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট বিক্রেতারা পূর্বে ইয়াসিন খানের কাছ থেকে বায়না নিয়ে সম্পত্তির মালিকানা লাভ করেছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি জমির সীমানা চিহ্নিত করতে পুকুরপাড়ে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হলে তা ভেঙে ফেলা হয়। অভিযোগে বলা হয়, গত বুধবার দুপুরের দিকে ইয়াসিন খান ও তার সহযোগীরা মানববন্ধনের নামে সাইনবোর্ড অপসারণ করে এবং ব্যানারে শাহ আলমকে ‘ভূমিদস্যু’ ও ‘চাঁদাবাজ’ হিসেবে উপস্থাপন করে, যা তার সম্মানহানির কারণ হয়েছে।
শাহ আলমের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তিনি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন এবং সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী বছরে কয়েকবার দেশে আসেন। তিনি বলেন, বৈধ কাগজপত্র ও অর্থের বিনিময়ে জমি ক্রয় করা হয়েছে এবং মালিকানা নিয়ে আপত্তি থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত।
তিনি বিষয়টি সিরাজদিখান থানাকে অবগত করার পাশাপাশি প্রয়োজনে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার কথাও জানান।
এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয় যে, ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মধ্যপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম শেখ, সিরাজদিখান উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল মাহমুদ এবং মধ্যপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন তালুকদার।

