ফুটবলপ্রেমীদের বহু প্রতীক্ষিত আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল দ্বৈরথ এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে দেখা যেতে পারে সেমিফাইনাল মঞ্চে। গ্রুপপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দুই দক্ষিণ আমেরিকান পরাশক্তিই নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে, ফলে নকআউট পর্বের সম্ভাব্য সমীকরণে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বর্তমান টুর্নামেন্ট সূচি অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল একই ব্র্যাকেটের অংশ। তাই সেমিফাইনালে দেখা হওয়ার আগে উভয় দলকে শেষ ৩২, শেষ ১৬ এবং কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরোতে হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ১৫ জুলাই আটলান্টায় হতে পারে বহুল কাঙ্ক্ষিত এই মহারণ।
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা গ্রুপ ‘জে’-তে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ এবং অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় তাদের গ্রুপসেরা হওয়ার পথও নিশ্চিত করে দেয়।
অন্যদিকে কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল গ্রুপ ‘সি’ থেকে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের পাশাপাশি হাইতির বিপক্ষেও একই ব্যবধানে জয় পায় সেলেসাওরা। মরক্কোর সঙ্গে ড্র করলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপসেরা হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা খেলবে গ্রুপ ‘এইচ’-এর রানার্সআপ দলের বিপক্ষে। অন্যদিকে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘এফ’-এর দ্বিতীয় স্থানে থাকা দল। দুই দলই নিজেদের ম্যাচে জয় পেলে ধাপে ধাপে সেমিফাইনালের দিকে এগোবে।
আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ম্যাচ ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ইতিহাস, আবেগ, শিরোপার লড়াই এবং তারকাদের উপস্থিতি এই ম্যাচকে সবসময়ই বিশেষ মর্যাদা দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে আর্জেন্টিনা কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্রাজিলকে হারালেও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সব হিসাবই নতুন করে শুরু হয়।
লিওনেল মেসির অভিজ্ঞতা ও আক্রমণভাগের ধার যেমন আর্জেন্টিনার বড় শক্তি, তেমনি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, নেইমার এবং আনচেলত্তির কৌশলগত পরিকল্পনা ব্রাজিলকে করেছে আরও ভয়ংকর। তাই দুই দল সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পারলে ২০২৬ বিশ্বকাপ উপহার পেতে পারে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত এক মহারণ।

