জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা অসুস্থ মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শয্যাপার্শ্বে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি প্রধান তারেক রহমান কেন দেশে ফিরছেন না—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে গভীর বিস্ময় ও তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তারেকের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষক ও কলামিস্ট পিনাকি ভট্টাচার্য।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল পৌনে ৯টার দিকে তারেক রহমান তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখেন, দেশে আসার সুযোগ তাঁর জন্য ‘অবারিত নয়’ এবং দেশ-ফেরার সিদ্ধান্ত তিনি ’এককভাবে’ নিয়ন্ত্রণ করেন না।
তারেক রহমানের এই ‘রহস্যেঘেরা’ জবাবকে ঘিরে পিনাকি ভট্টাচার্য জনমনে সৃষ্ট উদ্বেগ ও হতাশা তুলে ধরেন। তিনি প্রশ্ন করেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত, মানবিক ও রাজনৈতিক মুহূর্তে যদি তিনি নিজ সিদ্ধান্তের মালিক না হন, তবে সেই সিদ্ধান্ত কে বা কার হাতে?
ভট্টাচার্য জনমনে উত্থাপিত প্রশ্নগুলি তুলে ধরেছেন:
বাধা দানকারী শক্তি: কোন শক্তি ওনাকে দেশে ফিরতে বাধা দিচ্ছে? এটি কি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠান, আদালত, নিজ দলের ভেতরের কোনো পক্ষ, না অন্যকোনো রাষ্ট্র?
বিদেশি চাপ: তিনি কি কোনো বিদেশি শক্তির চাপে নত থাকতে বাধ্য হচ্ছেন?
সিদ্ধান্তের মালিকানা: তাঁর পক্ষে বা তাঁর স্বার্থানুকূল সিদ্ধান্তসমূহ কে বা কারা নেয়?
পিনাকি ভট্টাচার্য জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের সেই নির্মম সত্য জানার অধিকার রয়েছে। জনগণ স্পষ্ট উত্তর চায়, এই অন্তিম মুহূর্তে সোজা-সাপটা জবাব দিতে হবে। এড়িয়ে যাওয়া বা অস্পষ্ট বচন, গুপ্তরহস্যমূলক কথা বলা চলবে না।”
পিনাকি ভট্টাচার্য তারেক রহমানের এই অপারগতাকে তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সামর্থ্যের সঙ্গে যুক্ত করে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, একজন নেতা যদি নিজের মৃত্যুপথযাত্রী মায়ের জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতে তাঁর শয্যাপাশে থাকতে অপারগ হন, এবং সবচেয়ে আপন সিদ্ধান্তটিও তিনি নিজে নিতে না পারেন, তাহলে দেশমাতৃকার সংকটকালে তাঁর সিদ্ধান্তকে কোনো অদৃশ্য শক্তি নিয়ন্ত্রণ করবে না—এই বিশ্বাস দেশবাসী কোথায় খুঁজে পাবে?
ভট্টাচার্য আরও প্রশ্ন করেন, “যিনি নিজের প্রিয়তম মায়ের জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তাঁর কাছে ফেরার সাহস দেখাতে পারেন না, এইটুকু স্বাধীনতা বা সামর্থ যার নাই;… যাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতাই অন্য কারো ওপর নির্ভরশীল, তিনি কী ভাবে এই দেশকে আধুনিক, অগ্রসর ও সমৃদ্ধির অভিমুখে পরিচালিত করতে পারবেন।”
এই মন্তব্য তারেক রহমানের দেশে না ফেরার পেছনে থাকা আইনি, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতা নিয়ে জনমনে বিদ্যমান আলোচনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

