মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ
আমাদের জুলাইতুতো ভাই উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে লক্ষ করে হামলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। হামলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। যারা হামলা করেছে তারাই মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেছে। এই ভিডিও নিশ্চয় দিল্লী পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আমেরিকার মতো সভ্য দেশে গেলেও ‘আওয়ামী লীগ’ যে ‘আওয়ামী লীগ’ই থেকে যায় তার প্রমাণ আজকের ঘটনা। হামলার এক পর্যায় দেখা যায়, কালো গাড়ির ব্যাকডালা খুলে লুটপাট করছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। মুখে সেই বাকশালি স্লোগান।
আজকের এই ঘটনা সহজ করে দেখার সুযোগ নেই। আমেরিকার মতো দেশে বসে একটা নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে দাঁড়ানো, স্লোগান দেওয়া, মব করার পরিণতি তাদের অজানা নয়। মববাজির দায়ে ভিসা বাতিল হতে পারে জেনেই তারা মাঠে নেমেছে।
স্বৈরাচার শেখ হাসিনার প্রচ্ছন্ন মদদ ছাড়া তাদের মাঠে নামার সাহস হওয়ার কথা না। ইন্টেরিম গভর্নমেন্টসহ জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের প্রতিটি শক্তির উচিত ভিডিও দেখে প্রত্যেককে চিহ্নিত করে মার্কিন সরকারের কাছে তথ্য দিয়ে এই ঘটনার বিচার চাওয়া। না হলে আগামীতে শুধু ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের উপদেষ্টাগন না, বরং জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের যে কেউ বিদেশের মাটিতে নিরাপদ থাকবে না।
মাহফুজ আলমের উপর এই হামলা কেবল একজন উপদেষ্টার উপর হামলা না; বরং জুলাই অভ্যুত্থানের উপর হামলা। ড. ইউনুস সারাবিশ্বের সামনে মাহফুজ আলমকে জুলাই বিপ্লবের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড বলে পরিচয় করে দিয়েছেন। সেই মাহফুজ আলমের উপর হামলার পরেও যদি ড. ইউনুস কূটনৈতিক খেলা না দেখান, আমাদের চোখে ড. ইউনুসের গর্বিত মুখ নিচু হয়ে ধরা দিবে।
তার উচিত কুটনৈতিক যোগাযোগ ব্যবহার করে হামলা ও লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া। বাংলাদেশি পাসপোর্ট বাতিল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিল করা। আমরা তো ড. ইউনুসকে তার কুটনৈতিক ক্ষমতা এবং সারা বিশ্বে তার গ্রহণযোগ্যতার কারণেই প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মেনে নিয়েছি। সেই ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহারের সময় এখনই।
এই ঘটনায় আমরা মিনমিনে কোনো প্রতিবাদলিপি দেখতে চাই না। অ্যাকশন দেখতে চাই অ্যাকশন। গোপালগঞ্জে যেই অ্যাকশন দেখতে চেয়েছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের হাদি।
মাহফুজ আলম আমাদের জুলাই বিপ্লবের কারিগরদের একজন। যাদের ডাকে দেশের সর্বস্তরের মানুষ পথে নেমেছে, লেথাল উইপনের সামনে দাঁড়িয়েছে হাসতে হাসতে, অকাতরে জীবন দিয়েছে বিপ্লবের সেই মুয়াজ্জিনদের উপর আঘাতকে আমরা ব্যক্তিগতভাবে নিতে শিখেছি। বিদেশের মাটিতে বিপ্লবীদের যাপন যতটা অনিরাপদ করা হবে দেশে থাকা ফ্যাসিবাদের ল্যাঞ্জাগুলোকে ততটাই অতিষ্ট করে তোলা হবে।
এখন দেখার বিষয় যুক্তরাষ্ট্রে হামলাকারীদের বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়। সরকার পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে জুলাইয়ের সন্তানরা হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।
