মো: এ কে নোমান, নওগাঁ প্রতিনিধি:
ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম, পরে পারিবারিকভাবে বিয়ে। সেই দাম্পত্য সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এবার ৫০ লাখ টাকা দাবি, মারধর, জোরপূর্বক ব্যাকডেটের কাবিননামায় স্বাক্ষর নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে ভোলার একটি পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার এক যুবক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারী মো. মুমিন হোসেন নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের মালঞ্চা গ্রামের বাসিন্দা। লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, ২০২৪ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার এক তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ওই তরুণী তার বাড়িতে এলে উভয়ের সম্মতিতে ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বর্তমানে তাদের দাম্পত্য জীবনে ১৫ মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে তার স্ত্রী ও সন্তানকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর গত ১৮ জুন স্ত্রী ও সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ভোলার বোরহানউদ্দিনে শ্বশুরবাড়িতে গেলে সেখানে তাদের আটকে রেখে মারধর করা হয়।
মুমিন হোসেনের অভিযোগ, পরদিন দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ১৫ লাখ টাকার একটি ব্যাকডেটের কাবিননামায় তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ওই কাবিননামায় ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া তার কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দিয়ে তাদের সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হামলার ঘটনায় তার এক আত্মীয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া পরবর্তীতেও মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত কল রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়িসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

