দেশের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে সেশনজট দূর করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে আগামী বছরের মাধ্যমিক (এসএসসি) ও উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে এবং এইচএসসি পরীক্ষা জুন মাসে আয়োজন করা হবে।
বুধবার (১৩ মে) বিকেলে গাজীপুরের বোর্ড বাজারে অবস্থিত ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ‘শ্রেষ্ঠত্ব পুরস্কার বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই পাবলিক পরীক্ষা আয়োজনের একটি পরিকল্পনা ছিল। তবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতামত বিবেচনা করে সরকার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।
তিনি বলেন, “এক বছরেই যদি চার মাস সময় কমিয়ে দেওয়া হয়, তবে শিক্ষার্থীরা চরম মানসিক চাপের মুখে পড়বে এবং তাদের শিখন ঘাটতি তৈরি হবে। কোনো শিক্ষার্থীর জীবন থেকে যেন অতিরিক্ত সময় নষ্ট না হয়, সেজন্য ধাপে ধাপে এই সময়সূচি সমন্বয় করা হচ্ছে। তবে পরবর্তী বছরগুলোতে পরীক্ষাগুলো পুরোপুরি নির্ধারিত সময়ে ফিরিয়ে আনা হবে।”
উচ্চশিক্ষার সেশনজট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়মিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার যেন আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করা যায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
আইইউটি-র অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে, একই দিন সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অংশ নেওয়া শিক্ষক ও অভিভাবক প্রতিনিধিরা ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেওয়ার বিরোধিতা করলে সরকার সবার মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে জানুয়ারি ও জুনের এই নতুন সময়সূচি চূড়ান্ত করে। শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করেন, যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আইইউটি-র উপাচার্য ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য ড. হিসাইন আরাবি নূর। আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সার্টিফিকেট তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী।

