বাংলাদেশে ভারতীয় কূটনীতিকের রহস্যজনক মৃত্যু। চট্টগ্রামে অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশন চত্বর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছে। ওই কূটনীতিক সেখানে প্রোটোকল অফিসার হিসেবে মোতায়েন ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর কারণ ঘিরে ধোঁয়াশা। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। (Indian Diplomat Dead in Bangladesh)
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের খুলশীতে অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশন চত্বর থেকে ৩৫ বছর বয়সি ওই কূটনীতিকের দেহ উদ্ধার হয়। আদতে হরিয়ানার বাসিন্দা ওই কূটনীতিকের নাম নরেন্দ্র। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে কোনও সাড়াশব্দ মিলছিল না নরেন্দ্রর। এর পর কর্তৃপক্ষের কাছে খবর যায়। (Bangladesh News)
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। নরেন্দ্রর দেহ উদ্ধার করা হয়। বাংলাদেশের bdnews24 জানিয়েছে, দোতলায় ডেটা এন্ট্রি রুমের শৌচাগারের সামনে থেকে নরেন্দ্রর দেহ উদ্ধার হয়। The Daily Star জানিয়েছে, ঘরের মধ্যে থেকে কোনও সাড়া মিলছিল না নরেন্দ্রর। তাতেই কর্তৃপক্ষের কাছে খবর যায়। খবর দেওয়া হয় পুলিশকেও।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয় নরেন্দ্রর মৃতদেহ। তৈরি হয়েছে ইনকোয়েস্ট রিপোর্টও। তবে রিপোর্টে কোনও অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি বলে খবর। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ। সেই রিপোর্ট পাওয়া গেলেই নরেন্দ্রর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে বলে মনে করছে পুলিশ।
নর্থ জোনের CMP ডেপুটি কমিশনার আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের কার হচ্ছে আপাতত। ময়নাতদন্তের পর দেহ তুলে দেওয়া হয়ে ভারতের অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনের হাতে। ভারতে নরেন্দ্রর পরিবারের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে তদন্তেও সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তবে সন্দেহজনক কিছু মিলেছে বলে খবর নেই। জানা গিয়েছে, অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনের কর্মীরা ডেকে ডেকে সাড়া পাননি। তাতেই খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। খুলশী থানার ওসি মহম্মদ আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, যে ঘরে থাকতেন নরেন্দ্র, সেখান থেকে কিছু ওষুধ পাওয়া গিয়েছে। ছিল তাঁর পাসপোর্ট।
খুলশী থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে যুগান্তরকে বলেন, সকালে দূতাবাস থেকে আমাদের খবর দেওয়া হয়। এরপর আমাদের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল করেছে। তিনি যে কক্ষে থাকতেন সেই কক্ষের বাথরুমের সামনে তার লাশটি পড়েছিল। কক্ষে কিছু মেডিসিন ছিল। পাসপোর্ট ছিল। নরেন্দ্রর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলেও দাবি তাঁর। স্ট্রোক হয়ে থাকতে পারে নরেন্দ্রর। তবে গোটাটাই অনুমান। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

