কলাপাড়ার ছোট্ট বাঁধঘাট গ্রামে এক বেদনাময় সকাল। সেখানে দীর্ঘ ছয়-সাত বছর ধরে মানুষের স্নেহ পেতো এক কুকুর। নাম তার জানা নেই, তবে স্থানীয়রা তাকে ভালোবেসে ‘মা কুকুর’ ডাকতো। সম্প্রতি সে ছয়টি চমকপ্রদ ছোট ছানা জন্ম দিয়েছে, যারা প্রতিদিন আনন্দের খেলা ছড়াতো গ্রামে।
কিন্তু সেই শান্তি ভাঙলো এক মুহূর্তে। স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল হক অভিযোগ করা একটি ঘটনার আড়ালে মা কুকুরটিকে পিটিয়ে হত্যা করলো। ঘটনার পর নাসরিন নাহারের মেয়ে পর্যন্ত তার রোষের শিকার হন। মা কুকুর মারা যাওয়ার পর ছানাগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে, ভয়ে ঘরছাড়া হয়ে পড়ে।
নাসরিন নাহার কান্না ভেঙে বলেন, “আমি প্রাণভরে যত্ন নিয়েছি এই কুকুরটিকে। তার ছানাগুলো এখন ভয়ে একা। আমি চাই, যারা এই জঘন্য কাজ করেছে তাদের যথাযথ বিচার হোক।”
অপর পক্ষে, নুরুল হকের বড় ভাই নান্টু মিয়া বলেন, “কুকুরটি অনেক ক্ষতি করেছে, তাই হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যা করা ভুল, প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণ চাওয়া যেত।”
কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তা মারুফ বিল্লাহ বলেন, “অবুঝ প্রাণীকে পিটিয়ে মারা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কুকুরটির মালিক আমাদের কাছে এলে তাদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।”
ছানাগুলো এখন মা ছাড়া, একা এবং নিরাপত্তাহীন। গ্রামটিতে যে দুঃখের ছায়া নেমেছে, তা শুধু একজন প্রাণীর মৃত্যু নয়, বরং এক মমতার গল্পকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

