আনোয়ার হাসান চৌধুরী, কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় বন্য হাতির আক্রমণে এক মা ও তার শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার সৈয়দ কলোনীতে এ ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতরা হলেন ছেমন আরা (২৫) ও তার তিন বছর বয়সী মেয়ে আসমা বিবি। তারা মো. একরাম মিয়ার স্ত্রী ও সন্তান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভোরের দিকে হঠাৎ করে তিনটি বন্য হাতির একটি পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। হাতিরা সৈয়দ কলোনীর কয়েকটি বসতঘরের সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করে এবং আশপাশের গাছপালা উপড়ে ফেলতে শুরু করে। এতে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।
তার ভাষ্য, শব্দ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন একরাম মিয়া ও তার স্ত্রী ছেমন আরা। তাদের সঙ্গে ছিল দুই শিশু সন্তান। এ সময় দুটি হাতি তাদের দিকে তেড়ে এলে একরাম মিয়া ছয় বছর বয়সী ছেলে রেহান উদ্দিনকে নিয়ে দ্রুত বাড়ির পেছনে গিয়ে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হন। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আছমা বিবি ও তার ছোট কন্যা আসমা বিবি হাতির আক্রমণের মুখে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল জানান, হাতির পালটি ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। সামনে পড়ায় মা-মেয়ের পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না। হাতিরা ঘরবাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি আশপাশের গাছের আম ও কাঁঠাল খেয়ে পরে পাশের পাহাড়ে চলে যায়।
তিনি বলেন, আক্রান্ত পরিবার রোহিঙ্গা নাগরিক। তারা বনবিভাগের জমিতে ঘর তুলে কয়েক বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার পর পরই হাতির পালটিকে তাড়িয়ে গভীর বনে প্রবেশ করানো হয়েছে। একই সঙ্গে বন্য হাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বাংলা এফএমকে রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়। পরে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে।

