সহিদুল করিম বিপ্লব, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার বাসা বাড়ির ময়লা আবর্জনা ১২ দিন ধরে অপসারণ না করায় জনদুর্ভোগে করেছেন স্থানীয়রা। নির্দিষ্ট জায়গা না পাওয়ায় এবং অপসারণ করতে না পেরে বাসা ও দোকানপাটসহ বিভিন্ন খোলা জায়গায় ফেলে রাখছেন।
মৌসুমী ফলের সিজন হওয়ার আম,কাঁঠাল, লিচু,আষাড়িসহ নানা ফলের ছাল পছে গিয়ে আরো বেশি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ময়লার দুর্গন্ধে অসুস্থ হয়ে পড়ছে স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা। হাট বাজারের দোকানপাটে ক্রেতা বিক্রেতারা আসছে না ময়লার দুর্গন্ধে।তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ময়লা আবর্জনা অপসারণ করা হবে বলে আশস্থ্য করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তারাবো পৌর প্রশাসক
জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভায় লাখো মানুষের বসবাস। শিল্প এলাকা হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে এই তারাবো পৌরসভা এলাকায় এসে কাজ করছেন। আর এখানে বসবাসরত মানুষের বাসা বাড়ির নিত্যদিনের ব্যবহৃত ময়লা আবর্জনা ভ্যানে করে নির্ধারিত স্থানে ফেলানো হতো। আর কাজ করতেন সাইফুল ইসলাম নামের একটি ঠিকাদার । তিনি তিন বছর মেয়াদে তারাবো পৌরসভার টেন্ডার এর মাধ্যমে বাসা বাড়ি থেকে ৬০ টাকা করে নিয়ে ময়লা অপসারণ করে ভ্যানে করে নির্ধারিত স্থানে ফেলতেন । তার চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন ঠিকাদার মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন তিন বছর মেয়াদে এই কাজটি। কাজটি পাওয়ার ১০ দিন হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ভ্যানে করে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার কাজ শুরু করেননি। ফলে বাসা বাড়ি, দোকানপাট ও হাট বাজারের ব্যবহৃত ময়লা আবর্জনা বাসা বাড়ি, দোকানপাট, খোলা জায়গা ও রাস্তার পাশে ফেলে দিচ্ছে। এতে করে পচা ও দুর্গন্ধে জনদুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী। শুধু তাই নয়, স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা পচা দুর্গন্ধে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ফলে স্কুলে নিয়মিত পাঠ দান করতে পারছেন না। ঢাকা সিলেট মহাসড়কের পাশে এসব ময়লা আবর্জনা ফেলায় এই সড়কে চলাচলরত যাত্রী সাধারণ ও পথচারীরাও পরিবেশ দূষণ হওয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন ।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, আমরা টাকা দেওয়ার পরেও অনেকদিন ধরে ময়লা আবর্জনা অপসারণ করা হচ্ছে না। বাসা বাড়ির থেকে ভারাটিয়ারা চলে যাচ্ছে দুর্গন্ধের কারণে। রাস্তাঘাটে চলাচল করতে পারছি না। অনেকে অধিক টাকা দিয়েও ময়লা ফেলাতে পারছে না। দ্রুত ময়লা অপসারণ করার জোর দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী
তারাবো পৌরবাসী।
নোয়াপাড়া এলাকার বাবুল হোসেন বলেন, আমরা এ গ্রেডের পৌরসভার বাসিন্দা। অথচ সেই মানের সেবা পাচ্ছিনা। প্রায় দুই সপ্তাহ হয়ে গেল পৌরসভা ময়লা নিচ্ছেন না। রাস্তার পাশে ময়লার স্তুপের কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
বরাবো এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, পৌরবাসীর ময়লা আবর্জনা জমতে জমতে প্রতিটি মহল্লায় ছোটখাট ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে।
নজরুল ইসলাম বাদল নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, প্রতিটি বাড়িতে এখন ময়লা জমে আছে। এসব ময়লা আবর্জনা দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত স্থানে ভ্যানে করে অপসারণ না করা হলে আরো ভয়াবহ জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হবে। রোগাক্রান্ত হয়ে পড়বে মানুষ। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে ময়লা আবর্জনা অপসারণ করে জনদুর্ভোগ কমানোর দাবি জানিয়েছে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তারাবো পৌরসভার প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জয় জানান, টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। যারা এই কাজটি পেয়েছে তারা অচিরেই কাজ শুরু করবেন।পাচ থেকে সাত দিনের সময় লাগছে। এই ময়লা গুলো ফেলানোর জন্য এক ধরনের স্পেশাল ভ্যানের প্রয়োজন হয় সেগুলো তাদের ছিল না। আমাদের সাথে কথা হয়েছে আগামী দুই তিন দিনের মধ্যে কাজ শুরু করবে। যদি ময়লা অপসারণের কাজ শুরু না করেন তাহলে আমরা টেন্ডার বাতিল করবো এবং আমরা নতুন রিটৈন্ডআরে যাবো।

