লিভার ও ফুসফুসের জটিলতা নিয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মৃত্যুর খবরটিকে সম্পূর্ণ ‘গুজব’ বলে নিশ্চিত করেছে তার পরিবার। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত থেকে ফেসবুকে কিছু পেজ ও আইডি থেকে তার মৃত্যুর ভুয়া খবর ও ফটোকার্ড ভাইরাল হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কারিনার বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে কায়সার হামিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই অপপ্রচারে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের পরিবার এমনিতেই মেয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। এ মুহূর্তে সবার মানসিক সাপোর্ট প্রয়োজন। দুই মিনিটের গ্যারান্টি যেখানে জীবনের নেই, সেখানে মৃত্যুর মতো একটা স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে এভাবে ভুয়া খবর ছড়ানো বা ব্যবসা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দয়া করে কেউ এমন কাজ করবেন না।”

কারিনা কায়সারের সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে তার বাবা জানান: ফুসফুসের সংক্রমণ: তার ফুসফুসে কিছুটা ইনফেকশন (সংক্রমণ) রয়েছে, তবে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সেটি ধীরে ধীরে রিকভারি বা উন্নতির দিকে যাচ্ছে।
ফুসফুস ঠিক হওয়ার পর লিভারের মূল চিকিৎসা শুরু হবে। ইতিমধ্যে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের (প্রতিস্থাপন) প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কায়সার হামিদের দুই ছেলের কিছু টেস্ট করা হয়েছে, যার রিপোর্ট আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া যাবে।
শুরুতে সাধারণ জ্বর ও পরে শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়লে কারিনা কায়সারের হেপাটাইটিস এ এবং ই জটিলতা দেখা দেয়, যার ফলে তার লিভার ফেইলিউর হয়। দেশে আইসিইউ ও লাইফ সাপোর্টে থাকার পর গত সোমবার (১১ মে) রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে চেন্নাইয়ের ভেলোরে অবস্থিত খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান কারিনা কায়সার। পরবর্তীতে ওটিটি (OTT) এবং নাটকের জগতেও অভিনয় ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’ এবং ‘৩৬-২৪-৩৬’।
তার অসুস্থতার এই কঠিন সময়ে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে, তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন সহকর্মী ও ভক্তরা।

