ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা আজ রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনের বটতলায় শপথ নিয়েছেন।
নির্বাচিত হলে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখা, প্রতিপক্ষের সঙ্গে গণতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে আচরণ করা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সেবার নিশ্চয়তা দেওয়া, নারীদের সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নসহ আটটি বিষয়ে তাঁরা অঙ্গীকার করেন।
শপথপাঠ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী মো. আবিদুল ইসলাম শপথবাক্য পাঠ করান। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম, সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদসহ ডাকসু ও হল সংসদের বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বী ২০৫ জন প্রার্থী এতে অংশ নেন।
শপথে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গণরুম ও গেস্টরুম নির্যাতন, জোরপূর্বক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সংস্কৃতি আর কখনো ফিরতে দেওয়া হবে না। নারীদের জন্য নিরাপদ আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও সম–অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার অঙ্গীকার করেন প্রার্থীরা। পাশাপাশি বৈধ সিট নিশ্চিত করা, সাশ্রয়ী মূল্যে খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।
এ ছাড়া অনলাইনে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা, ফেক নিউজ ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধ, আধুনিক ও মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার প্রত্যয় এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি শিষ্টাচার বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও শপথে উঠে আসে।
শপথ শেষে আবিদুল ইসলাম বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থী ও প্যানেলকে ভোট দিই। আমরা সবাই মিলে গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে গড়ে তুলি একটি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও শিক্ষার্থীবান্ধব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।’
ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান বলেন, ‘এবারের ডাকসু নির্বাচনে আমাদের স্লোগান হলো—প্রতিশ্রুতি নয়, অঙ্গীকারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আজকের শপথে আমরা যে অঙ্গীকার করেছি, নির্বাচিত হলে আমাদের প্যানেলের প্রার্থীরা সেগুলো বাস্তবায়ন করবেন।’

