জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যসহ সংসদ সচিবালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য বিশেষ উপহার পাঠিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ সোমবার (২২ জুন ২০২৬) সংসদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে এই বিশেষ উপহার পৌঁছে দেওয়া হয়। সংসদ সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি প্যাকেটে ১০ কেজি ওজনের প্রিমিয়াম কোয়ালিটির মৌসুমি আম ছিল। আজ সকাল থেকেই ১০ কেজির এই বড় বড় প্যাকেটে কী আছে, তা নিয়ে সংসদ ভবনের করিডোরগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও গুঞ্জন দেখা গিয়েছিল। পরে দুপুরের দিকে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সংসদ ভবনের প্রতিটি দপ্তরে গিয়ে এই উপহার হস্তান্তর করেন।
ডা. শফিকুর রহমানের এই উপহার বিতরণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও প্রশংসনীয় দিক ছিল এর সমবণ্টন নীতি। সাধারণত প্রথাগত সংসদীয় সংস্কৃতিতে কেবল ভিআইপি বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাই বিভিন্ন উপহারের তালিকায় অগ্রাধিকার পান। কিন্তু এবার সেই বৃত্ত ভেঙে আমিরের পাঠানো উপহারের তালিকায় সংসদ সচিবালয়ের ঝাড়ুদার, পিয়ন, লিফটম্যান ও গাড়িচালকরাও সমভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নিম্ন আয়ের এই কর্মচারীরাও প্রত্যেকে সমান ১০ কেজি করে আমের প্যাকেট উপহার পেয়েছেন।
সংসদীয় বড় বড় নেতাদের উপহার পাওয়ার এই তালিকায় নিজেদের নাম দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাধারণ কর্মচারীরা। সংসদ সচিবালয়ের একজন অফিস সহায়ক (পিয়ন) তাঁর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান:
“সংসদের বড় বড় ভিআইপি নেতাদের দামী দামী উপহার সাধারণত আমরা দূর থেকেই দেখি, আমাদের কপালে কোনোদিন জোটে না। কিন্তু বিরোধীদলীয় নেতা আমাদের মতো সাধারণ ও ছোট কর্মচারীদের কথা মনে রেখে সমান ১০ কেজির আমের প্যাকেট উপহার পাঠিয়েছেন। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় সম্মানের।”
সংসদ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সংসদের সকল স্তরের মানুষ, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের সম্মানিত করার এই মানবিক উদ্যোগটি সংসদীয় ইতিহাসে একটি চমৎকার ও বিরল নজির স্থাপন করল।

