২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘আই’ এ শুক্রবারের আলোচিত ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও নরওয়ে। তবে এই ম্যাচের চেয়েও বেশি আলোচনা হচ্ছে দুই দলের দুই মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপে ও এরলিং হলান্ডকে ঘিরে। আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে ভয়ংকর দুই গোলদাতার মুখোমুখি লড়াই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে ফুটবল বিশ্ব।
দুই দলই টানা দুই ম্যাচ জিতে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। ফলে ম্যাচটি মূলত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করবে। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ড্র করলেও শীর্ষস্থান ধরে রাখবে ফ্রান্স, আর নরওয়েকে গ্রুপসেরা হতে হলে জয়ের বিকল্প নেই।
এই বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন এমবাপে ও হলান্ড। দুজনই নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে চারটি করে গোল করেছেন। গোল্ডেন বুটের দৌড়েও সমানতালে এগিয়ে রয়েছেন তারা। ফলে এই ম্যাচে কে এগিয়ে যাবেন, সেটিও বড় আকর্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছে।
ফ্রান্সের আক্রমণভাগে এমবাপের পাশাপাশি রয়েছেন ওসমান ডেম্বেলে, মাইকেল অলিসে ও রায়ান শেরকির মতো সৃজনশীল ফুটবলাররা। অন্যদিকে নরওয়ের আক্রমণের মূল ভরসা হলান্ড হলেও মাঝমাঠে মার্টিন ওডেগার্ডের উপস্থিতি দলটিকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে। দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে নরওয়ে যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্যই বড় হুমকি।
তবে ম্যাচটি ঘিরে কিছুটা কৌশলী অবস্থান নিয়েছে নরওয়ে। কোচ স্টালে সলবাকেন জানিয়েছেন, নকআউট পর্বের কথা মাথায় রেখে কয়েকজন খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। যদিও হলান্ড নিজে খেলতে প্রস্তুত থাকলেও দলগত স্বার্থকেই প্রাধান্য দিচ্ছে নরওয়ে।
অন্যদিকে ফ্রান্সও ম্যাচটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ গ্রুপসেরা হলে নকআউট পর্বে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তাই দুই দলই পূর্ণ শক্তিতে না খেললেও জয় তুলে নিতে চাইবে।
সব মিলিয়ে এটি শুধু ফ্রান্স বনাম নরওয়ের ম্যাচ নয়, বরং বর্তমান বিশ্বের দুই সেরা স্ট্রাইকার এমবাপে ও হলান্ডের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বেরও লড়াই। গ্রুপ পর্বের অন্যতম আকর্ষণীয় এই ম্যাচে কার হাসি শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে উজ্জ্বল হবে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

