আহমেদ মুনহা, চবি প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে “রংপুর ডিভিশনাল প্রিমিয়ার লিগ ২০২৬”।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকাল ৩:৩০ মিনিটে চবি এ এফ রহমান হল মাঠে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনের করা হয়। ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মাখন চন্দ্র রায়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের প্রভাষক মোঃ শাহজালাল বাদশা, রসায়ন বিভাগের প্রভাষক ড. মুহাম্মদ মশিউর রহমান, অধ্যাপক খন্দকার রাজিউর রহমান এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রভাষক অদিতি চক্রবর্তী।
এছাড়া আরো উপস্হিত ছিলেন রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও।
সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহনে মাঠজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে রংপুর বিভাগের আটটি জেলা—কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, গাইবান্ধা ও দিনাজপুর।
ভিন্ন ভিন্ন জেলা থেকে আসা শিক্ষার্থীরা একই জার্সিতে, একই স্বপ্নে একত্রিত হয়ে ফুটবল মাঠে দেখাচ্ছে দারুণ একাত্মতার ছবি। খেলার প্রতিটি মুহূর্তে ছিল দর্শকদের উচ্ছ্বাস।
চবি বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও লালমনিরহাট জেলার বাসিন্দা ড. মাখন চন্দ্র রায় বলেন, “এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্যই হলো রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা। আমরা চাই, তারা শুধু খেলাধুলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে নিজেদের সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্যের বন্ধনে আবদ্ধ হোক।”
তিনি আরও জানান, সামনে রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, ভাওয়াইয়া গানের আসর এবং একটি মিলনমেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
চাকসুর নির্বাহী সদস্য সালমান ফারসী বলেন, “খেলাধুলা মানুষকে কাছাকাছি আনে। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে যে বন্ধন তৈরি হচ্ছে, তা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি আশিক বাবু বলেন, “দূর উত্তরবঙ্গ থেকে এসে এখানে পড়াশোনা করি। এই আয়োজন আমাদের মাঝে এক ধরনের আপন ভাব তৈরি করেছে। মনে হচ্ছে, আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য।”
বৃহত্তর রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম জেলা এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহরিয়ার হাসান বলেন,“প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ নিতে পেরে আমরা আনন্দিত। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে এটি আরও বড় পরিসরে আয়োজন করার ইচ্ছা রয়েছে।”
আয়োজকরা মনে করছেন, এই টুর্নামেন্ট কেবল একটি খেলা নয়,এটি উত্তরবঙ্গের শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্পর্ক গড়ে তোলার এক অনন্য সেতুবন্ধন।

