নবীন মাহমুদ,
ঝালকাঠির রাজাপুরে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো দখল করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বসবাসের অভিযোগ উঠেছে। এতে ভারত থেকে ধর্মপ্রচারে আসা তিন আলেমের আবাসন সংকট দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৮ এপ্রিল রাজাপুর থানায় যোগ দেন ওসি সুজন বিশ্বাস। যোগদানের পর থানার সরকারি বাসভবনে না উঠে তিনি সরাসরি জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর একটি কক্ষ দখল করে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে রাখায় সর্বসাধারণের প্রবেশও বন্ধ রয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে আগের ওসিরা থানার ভেতরের একটি ভবনেই বসবাস করে আসছিলেন।
এদিকে শুক্রবার ভারতের জৌনপুর থেকে তিনজন বিশিষ্ট আলেম ধর্মীয় সফরে রাজাপুরে আসেন। প্রতি বছর এই আলেমরা এলাকায় এসে সরকারি ভাড়া পরিশোধ সাপেক্ষে ডাকবাংলোতে অবস্থান করেন। কিন্তু এবার ওসির দখলের কারণে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফেজ আবদুর রহিম বলেন, ‘জৌনপুরের আলেমরা যুগ যুগ ধরে আমাদের এখানে আসেন। সর্বোচ্চ দুই দিন ডাকবাংলোতে থাকেন। ওসি সাহেব পুরো ভবন দখল করায় এবার আমরা মেহমানদের সম্মান রাখতে পারছি না। এটা আমাদের জন্য লজ্জার।
ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার মো. মানিক তালুকদার বলেন, ভবন খালি থাকায় ওসি স্যার কয়েকদিন আগে এখানে উঠেছেন। এখন প্রধান গেটে তালা দিয়ে রাখেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরী বলেন, ডাকবাংলো জেলা পরিষদের। আমরা শুধু তদারকি করি। থানার ভেতরের ওসির বাসভবন সংস্কারাধীন। কাজ শেষ হলে তিনি থানায় ফিরে যাবেন।
তবে ওসি সুজন বিশ্বাস দাবি করেন, থানার ভেতরে ওসিদের জন্য কোনো বাসযোগ্য ভবন নেই। আগের ওসিরা যে ব্যারাকে থাকতেন, সেটি এখন পরিত্যক্ত। বাধ্য হয়েই ডাকবাংলোতে উঠেছি।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে কর্মকর্তাদের আবাসন সংকটের সমাধান পর্যটক ও জনসাধারণের জন্য নির্ধারিত স্থাপনা দখল করে হতে পারে না। অবিলম্বে ডাকবাংলোটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

