সত্যজিৎ দাস:
ছিনতাইকারীকে ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন র্যাব-৯-এর সদস্য ইমন আচার্য্য। শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে সিলেট নগরের কোতোয়ালি থানা সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের মরদেহ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। সেখানে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
হাসপাতালের মর্গের সামনে নিহত ইমনের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা লাশ গ্রহণ করতে সিলেটে পৌঁছান। স্বজনদের বিলাপ ও আহাজারিতে আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
নিহত ইমনের কাকা হাটহাজারী উপজেলার কাটিরহাটের পশ্চিমে পশ্চিম ধলই উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক প্রাণজিৎ আচার্য্য জানান,”গত তিন মাস আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ইমন। ফেব্রুয়ারি মাসে আমার ভাইপো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ছিল। এই অল্প দিনের মধ্যে তাঁর স্ত্রীকে বিধবা হতে হলো। গত ১০ দিন আগে গ্রামের বাড়ি থেকে কর্মস্থল সিলেট গিয়েছিল। এর মধ্যে শুক্রবার দুপুরে সংবাদ পেলাম আমার ভাইপো আর এই পৃথিবীতে নেই।”
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে কোতোয়ালি থানা এলাকায় কিছু ছিনতাইকারী ও মাদকসেবী অবস্থান করছিল। পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে তারা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় সাদা পোশাকে দায়িত্বে থাকা র্যাব সদস্য ইমন আচার্য্য ঘটনাস্থলে পুলিশকে সহায়তা করতে এগিয়ে যান এবং এক ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পীকে জাপটে ধরেন।
তীব্র ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ছিনতাইকারী ইমনের বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া অভিযুক্ত বাপ্পী পরে তোপখানা এলাকার একটি বাসায় ঢুকে এক শিশুকে জিম্মি করার চেষ্টা করে। যৌথ অভিযান চালিয়ে পুলিশ ও র্যাব শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ছুরি উদ্ধারসহ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ওসি বাংলা এফএম’কে জানান,ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলা দায়েরের পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য,নিহত ইমনের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের আচার্য্য পাড়া এলাকায়। অল্প সময়ের সংসার ও কর্মজীবনের মাঝেই তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইমন আচার্য্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে করেন। মাত্র তিন মাসের মাথায় এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। ২০১৮ সালে তিনি পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল হিসেবে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালে র্যাব-৯-এ সংযুক্ত হন। ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে তিনি গ্রামের বাড়ি থেকে কর্মস্থল সিলেটে ফেরেন।

