যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ বুধবার (২৭ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে মুসলিম উম্মাহর সদস্যরা আজ ঈদের নামাজ আদায় ও আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কুরবানি করছেন। একই সঙ্গে হজ পালনে আগত লাখো মুসল্লি মিনার ময়দানে হজের শেষ ধাপের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিচ্ছেন।
ঈদের আগের দিন মঙ্গলবার হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন ‘উকুফে আরাফা’ সম্পন্ন করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ হাজি। ইহরাম পরিহিত মুসল্লিদের ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত ছিল আরাফাতের ময়দান। সেখানে নামিরা মসজিদে হজের খুতবা প্রদান করেন শায়খ আলি আল হুদাইফি। খুতবায় তিনি বিশ্বশান্তি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং তাকওয়া অবলম্বনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উল্লেখ্য, হাজিদের সুবিধার্থে এই খুতবা বাংলাসহ ৩৫টি ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার করা হয়।
সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে মুজদালিফায় গিয়ে অবস্থান করেন। সেখানে তারা খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করেন এবং আজ (বুধবার) মিনায় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের জন্য কঙ্কর সংগ্রহ করেন।
বুধবার সকালে মিনার বড় জামারায় প্রতীকী শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে হাজিদের ঈদের দিনের মূল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাথর নিক্ষেপ শেষে তারা মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কুরবানি করবেন। এরপর মাথা মুণ্ডন এবং কাবা শরীফ তাওয়াফের মাধ্যমে হজের বাকি কাজগুলো সম্পন্ন করবেন।
সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও আজ ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। দেশগুলোর প্রধান ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি ঈদের নামাজে অংশ নিয়েছেন। নামাজ শেষে তারা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
হাজিদের নিরাপত্তা এবং তীব্র গরমের মধ্যে সুস্থতা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। যাতায়াত ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে ড্রোন প্রযুক্তি এবং হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন। বিশ্ব মুসলিমের এই মহামিলন যেন সফলভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দেশটির সরকার।

