তানভীর তুহিন, স্টাফ রিপোর্টার:
এক সময়ের প্রবাহমান ও প্রাণচঞ্চল পূর্ব শ্যামপুর খাল এখন দখল আর দূষণের কবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে। ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া এ খালটি আজ ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। খালজুড়ে দূষিত কালো পানি, দুর্গন্ধ আর দখলের চিত্র স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এতে শুধু পরিবেশ নয়, হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার জীব-বৈচিত্র্যও।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভুবনেশ্বর নদী থেকে উৎপত্তি হওয়া প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পূর্ব শ্যামপুর খাল একসময় সারা বছরই পানিপূর্ণ থাকত। বর্ষা মৌসুমে ছোট-বড় নৌকা চলাচল করতো এ খাল দিয়ে। খাল থেকে মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন বহু জেলে। এছাড়া খালের পানির কারণে কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তো।
কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই খাল এখন হারিয়েছে তার স্বাভাবিক রূপ। দীর্ঘদিনের অবহেলা, অবৈধ দখল এবং দূষণের কারণে খালটি ধীরে ধীরে বিলীন হওয়ার পথে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, একসময় ৩০ থেকে ৩৫ ফুটের বেশি গভীর এই খালের স্লুইস গেটের সামনে নিয়মিত বাজারের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এছাড়া উৎসমুখে ছোট কালভার্টের মাধ্যমে স্থানীয় একটি ইটভাটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে পলি জমে খালের উৎসমুখ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বর্ষা ছাড়া বছরের অধিকাংশ সময় পানি থাকে না খালটিতে।
এদিকে খালের ওপর বালু ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে অটোস্ট্যান্ড। দুই পাশ দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে অসংখ্য অবৈধ দোকানপাট। ফলে প্রশস্ত খালটি এখন সরু ক্যানেলে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে খালের পানি এতটাই দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত যে সেখানে মাছ তো দূরের কথা, কোনো জলজ প্রাণীর টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। কালো ও বিষাক্ত পানিতে মশা, গুইসাপ এবং কিছু কীটপতঙ্গ ছাড়া তেমন কোনো প্রাণীর অস্তিত্ব নেই।
খালের পাশের বাসিন্দারা বলেন, “অনেকদিন ধরে আমরা দুর্ভোগের মধ্যে আছি। খাল থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ আসে, বাতাস বইলেই টেকা যায় না। মশার উপদ্রবও বেড়েছে। দ্রুত খালটি সংস্কার করা দরকার।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, খালটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। সময়মতো পরিকল্পিত পদক্ষেপ না নেওয়ায় সদরপুরের গুরুত্বপূর্ণ এ জলাধার ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
সচেতন মহলের দাবি, দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি উদ্যোগে খাল খনন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চললেও পূর্ব শ্যামপুর খাল এখনও রয়ে গেছে অবহেলার তালিকায়। তাদের মতে, দ্রুত খাল খনন, দখলমুক্তকরণ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে খালটি আবারও তার প্রাণ ফিরে পেতে পারে। এতে পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি কৃষি ও স্থানীয় জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

