আহমেদ মুনহা, চবি প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনের অবকাঠামো নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুন মাসেই স্টেশনটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
২০২৪ সালের ২৬ মার্চ শুরু হওয়া এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকার কারিগরি সহায়তা দিয়েছে সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি। বাকি ২০ কোটি টাকাএবং বাকি ২০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
প্রায় ৪২০ টেরাবাইট ডেটা সংরক্ষণ সক্ষমতাসম্পন্ন এই গ্রাউন্ড স্টেশন চালু করতে এখনও কিছু পরিচালনাগত কাজ বাকি রয়েছে। স্টেশনটির লক্ষ্য মোট ১১টি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা, যার মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় সাতটির সঙ্গে আংশিক সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। চীনের কয়েকটি স্যাটেলাইট থেকে উন্নতমানের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, পাশাপাশি জাপান ও নাসা স্যাটেলাইট থেকেও তথ্য সংগ্রহ চলছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ওপর নির্ভরশীল। তবে এই স্টেশন চালু হলে সেই নির্ভরতা অনেকাংশে কমে আসবে। তথ্য সংগ্রহের সময় ২০–৩০ ঘণ্টা থেকে কমে মাত্র ১৫–২০ মিনিটে নেমে আসবে, যা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আনবে।
স্টেশনটি চালু হলে আবহাওয়া পরিবর্তন, ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস, নদীভাঙন, বন উজাড়সহ পরিবেশ–সম্পর্কিত নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দ্রুত পাওয়া যাবে। এর ফলে সাইক্লোন ট্র্যাকিং, উপকূলীয় বন্যা মডেলিং এবং জলবায়ু পরিবর্তন–সংক্রান্ত বিশ্লেষণ আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য মাছ ধরার অঞ্চল চিহ্নিত করে টেকসই মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই উদ্যোগ।
প্রকল্পটির সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন বলেন, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বাণিজ্যিক নয়; বরং গবেষণা ও শিক্ষার প্রসার। শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা নির্দিষ্ট নিয়মে গবেষণা প্রস্তাব জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন, যা একাডেমিক প্রকাশনা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
তিনি আরও জানান, এটি একটি ডাউনলিংক স্টেশন এখানে কেবল তথ্য গ্রহণ করা হয়, প্রেরণ করা হয় না। তাই নিরাপত্তা বা অতিরিক্ত উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।
উদ্যোগটি চীনের
বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট এই প্রকল্পকে ‘স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডেটা ইনোভেশন সেন্টার’ নামে একটি স্বতন্ত্র কেন্দ্র হিসেবে অনুমোদন দেয় এবং এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় অধ্যাপক মোসলেম উদ্দিনকে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকল্পটি সচল রাখতে ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে পরিচালন ব্যয় ভাগাভাগি করা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আল ফোরকান বলেন, “প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ। আগামী ৭ থেকে ৯ জুনের মধ্যে স্টেশনটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হতে পারে। ভবিষ্যতে এটিকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনাও রয়েছে”।

