সৈয়দ আমিরুজ্জামান :
আজ থেকে দুই বছর পূর্বে বিদায় নিলেন বিদ্যমান শোষণ বৈষম্য বঞ্চনার অবসানের নিমিত্তে আর্থসামাজিক রাজনৈতিক আমুল পরিবর্তনের জন্য নিবেদিত প্রাণ, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ‘৭০ সালে তৎকালীন স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলার প্রবক্তা, বিশিষ্ট বামপন্থী নেতা, কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম প্রবাদ পুরুষ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক পলিটব্যুরোর সদস্য, কমিউনিস্ট পার্টির উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড হায়দার আকবর খান রনো ভাই। পরিণত বয়সে বিদায় নিলেও খুব খারাপই লেগেছিল। তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও অভিবাদন!
২০২৪ সালের ১০ মে দিবাগত রাত ২টা ৫ মিনিটে (১১ মে) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। প্রবীণ এ কমিউনিস্ট নেতা ওই বছরের ৬ মে সন্ধ্যায় অসুস্থতা নিয়ে রাজধানীর হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি হন। মৃত্যুর আগে সেখানেই চিকিৎসা নিয়েছিলেন তিনি।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে খ্যাত ও অসংখ্য গ্রন্থের লেখক কমরেড হায়দার আকবর খান রনো ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা ও সর্বশেষ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল তারই মেয়ে (বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য) কমরেড রানা সুলতানা, এর আগে শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানিয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে ক্রনিক ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত কমরেড হায়দার আকবর খান রনো ভাই যান্ত্রিক অক্সিজেন সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।
কমিউনিস্ট আন্দোলনের কিংবদন্তি ও মার্কসবাদী তাত্বিক কমরেড হায়দার আকবর খান রনো, কাজী জাফর আহমদ ও কমরেড রাশেদ খান মেনন রাজনীতির ত্রিরত্ন। কমরেড রাশেদ খান মেনন ও কমরেড হায়দার আকবর খান রনো বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক জুটি হিসেবে খ্যাতি ছিল দীর্ঘদিন। উভয়ের সাথে আমার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। এ বিষয়ে অন্য কোন নিবন্ধে আলোচনা করার ইচ্ছা রইলো।
কিংবদন্তি রাজনীতিক কমরেড হায়দার আকবর খান রনো কীর্তিমান তাত্ত্বিক ও খ্যাতিমান লেখকও বটে। তিনি রাজনীতি, অর্থনীতি ও দর্শন নিয়ে লিখেছেন।এমনকি সাহিত্য ও বিজ্ঞানের উপরও তাঁর অজস্র লেখা আছে। তিনি লিখেছেন সাম্রাজ্যবাদ ও পুজিবাদের মৃত্যু ঘন্টা নিয়ে। তিনি লিখেছেন ফরাসী বিপ্লব থেকে অক্টোবর বিপ্লব ও সোভিয়েত সমাজতন্ত্র সম্পর্কে, গ্রাম শহরের গরীব মানুষের রাজনীতির প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে, মার্কসবাদী রাজনীতি ও মার্কসীয় অর্থনীতি নিয়ে, মার্কসবাদ ও সশস্ত্র সংগ্রাম প্রসঙ্গে, সিপিবি ও চীনপন্থী বন্ধুদের নিয়ে, শ্রেণি দৃষ্টিকোণ থেকে ও মানুষের কবি হিসেবে রবীন্দ্রনাথকে মূল্যায়ন, কোয়ান্টাম যগৎ- কিছু বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক প্রশ্ন নিয়ে, বাংলাসাহিত্যের প্রগতির ধারা নিয়ে, পলাশী থেকে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীদের ভূমিকা ও স্টালিন প্রসঙ্গে, অক্টোবর বিপ্লবের তাৎপর্য ও বর্তমান প্রেক্ষাপটসহ নানা বিষয়ে প্রবন্ধ-নিবন্ধ।
আগেই উল্লেখ করেছি যে, তিনি ছিলেন কমরেড মেননের সাথে কমিউনিস্ট মতাদর্শের রাজনৈতিক জুটি ও বন্ধু, একাধারে তাত্ত্বিক, বুদ্ধিজীবী এবং বহু গ্রন্থের লেখক। তিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রণনীতি-রণকৌশলগত রাজনৈতিক ও তাত্ত্বিক ভিত্তি নির্মাতাদের অন্যতম প্রধান কারিগর। যে বিশ্লেষণ ও ভিত্তির উপর নির্ভর করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সংগ্রাম অব্যাহত আছে। এমনকি তিনি বিপ্লবের প্রস্তুতিকালে ও বিপ্লব সম্পন্ন করে কমিউনিস্টরা ক্ষমতায় গেলে অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নীতি ও কৌশল কী হবে? তা বিস্তৃত বিশ্লেষণ সহ নির্ধারণ করেছেন। এ যাবৎ তাঁর লেখা প্রকাশিত গ্রন্থগুলোই এসব কথার দালিলিক প্রমাণ। তিনি বাংলা একাডেমির কাছ থেকে ২০২২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
এদেশের বাম আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক নেতা, মার্কসবাদী সাহিত্যিক ও তাত্বিক, প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব ও বীরমুক্তিযোদ্ধা কমরেড হায়দার আকবর খান রনো ভাইয়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রস্তাব গ্রহণ করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।
কমরেড হায়দার আকবর খান রনো ভাইয়ের মৃত্যুর পর ওই সময়ে কমরেড রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পলিটব্যুরোর সভায় গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, কমরেড রনো এদেশের বাম প্রগতিশীল রাজনীতিতে যে ত্যাগ আদর্শ ও নীতি—নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন তা নতুন প্রজন্মের প্রগতিশীল কর্মীদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। ষাটের দশকে আইয়ূবের সামরিক শাসন বিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে কমরেড রনোর ভূমিকা অসামান্য।
পলিটব্যুরোর প্রস্তাবে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়েও সামরিক—স্বৈরাচারী শাসনের বিরোধীতা এবং ধনতান্ত্রিক বুর্জোয়া শাসনের বিপরীতে একটি সাম্যমূখী সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের লড়াইয়ে কমরেড রনোর রাজনৈতিক ভূমিকা দেশের জাতীয় ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। এছাড়াও মার্কবাদী এই তাত্বিক বিজ্ঞান, রাজনীতি, সমাজ ও সাহিত্য বিষয়ক অসংখ্য গবেষণাও আমাদের রাজনীতির সৃষ্টিশীল বৈশিষ্টের অন্যতম পরিচায়ক। কমরেড রনো’র এই মহা প্রয়াণ দেশের বাম—কমিউনিস্ট আন্দোলনের অপূরণীয় ক্ষতি যা পূরণ হবার নয়।
কমরেড হায়দার আকবর খান রনো ১৯৪২ সালের ৩১ আগস্ট কলকাতায় নানা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। নড়াইল জেলায় এক রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান রনো দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় জন্ম হয়েছিল বলে তাঁর ডাক নাম রাখা হয়েছিল রনো। এখন তিনি এই নামেই পরিচিত। পিতৃভূমি নড়াইল জেলার নড়াইল থানার অন্তর্গত চিত্রা নদীর পাড়ে বরশালা গ্রাম (বর্তমানে নড়াইল পৌরসভার অন্তর্গত)। নানাবাড়ি নড়াইল থানায় অন্তর্গত মির্জাপুর গ্রাম। নানা ছিলেন ছিলেন উপ-মহাদেশের বিখ্যাত রাজনীতিক সৈয়দ নওশের আলী।
পিতা হাতেম আলী খান ছিলেন একজন প্রকৌশলী। ১৯৬৮ সালে মরহুম হাতেম আলী খান তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের সড়ক ও জনপথ বিভাগের চীফ ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে অবসরগ্রহণ করেন। সৎ ও যোগ্য অফিসার হিসাবে তাঁর খ্যাতি ছিল। ১৯৯৯ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কমরেড রনোর মা সৈয়দা কানিজ ফতেমা মোহসিনা ছিলেন সৈয়দ নওশের আলীর দ্বিতীয় কন্যা। বাম রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি কমরেড রনোর মায়ের অকৃত্রিম ভালবাসা ও সহযোগিতার জন্য বাম প্রগতিশীল মহলের তিনি বিশেষ পরিচিত ও শ্রদ্ধার স্থানে অবস্থান করেছিলেন। কমরেড রনোর মানসিক গড়নের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার যথেষ্ট ভূমিকা ছিল। রনোর ছোট ভাই হায়দার আনোয়ার খান জুনোও একজন বিশিষ্ট বামপন্থি রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
হায়দার আকবর খান রনো’র একমাত্র কন্যা রানা সুলতানা। তার দুই নাতি আছে। অরিত্র ও অন্তিক।
শিক্ষাজীবন:
হায়দার আকবর খান রনো ছাত্রজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। স্কুলজীবনে তিনি বরাবরই ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করতেন। যশোর জিলা স্কুল, রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল ও ঢাকার সেন্টগ্রেগরী স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। ১৯৫৮ সালে ঢাকাস্থ সেন্টগ্রেগরী স্কুল হতে ম্যট্রিক পাশ করেন। ম্যাট্রিক পরীক্ষায় তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে তিনি মেধা তালিকায় ১২তম স্থান লাভ করেছিলেন। ১৯৬০ সালে ঢাকার নটরডেম কলেজ হতে আইএসসি পাশ করেন। ১৯৬০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু পদার্থবিদ্যার কোর্স সম্পন্ন করতে পারেননি কারাবাস ও অন্যান্য কারণে। পরে তিনি কারাগারে অবস্থানকালে আইনশাস্ত্রে ব্যাচেলর ডিগ্রী লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি হাইকোর্টের সনদও লাভ করেছিলেন। কিন্তু কোনদিন ওকালতি পেশা গ্রহণ করেননি।
ছোট বয়েসেই কমরেড রনো ভাই বাংলা ও বিদেশী ক্ল্যাসিক্যাল সাহিত্য পাঠ করেছিলেন। কিশোর বয়সেই বাবার কাছ থেকে রবীন্দ্রনাথ, মাইকেল, নজরুল, সেক্সপিয়ারের বিভিন্ন কাব্য শুনে শুনে তাঁর মুখস্থ হয়ে গিয়েছিলো। চমৎকার আবৃত্তির পাশাপাশি তিনি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিতর্ক ও সাহিত্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বহু পুরস্কার লাভ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি ভালো বক্তা হিসাবেও পরিচিতি লাভ করেছিলেন। ছাত্রজীবনে তাকে বলা হতো অনলবর্ষী বক্তা।
ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিদ্যার ছাত্র থাকাকালে ১৯৬০ সালে তিনি গোপন কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন। ১৯৬২ সালের ফেব্রুয়ারীতে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদানের মধ্য দিয়ে তাঁর সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ। ১৯৬৩ সাল হতে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন তদানিন্তন সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচত হন। ১৯৬১ সালে তিনি মেধাবী ছাত্র হিসাবে যে সিয়াটো স্কলারশিপ পেয়েছিলেন, তার পুরোটাই কমিউনিস্ট পার্টিকে চাঁদা হিসাবে দিয়েছিলেন।
তখন দেশে সামরিক শাসন চলছিল। প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতা ছিল না। কোন ছাত্র সংগঠনের অস্তিত্বও ছিল না। এই সময়ে গোপন কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ছাত্র গোপনে সামরিক শাসন বিরোধী ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তার মধ্যে প্রধান ভূমিকায় ছিলেন মোহাম্মদ ফরহাদ ও হায়দার আকবর খান রনো। টার্গেট ছিল ২১ ফেব্রুয়ারীর মিছিল থেকে শুরু হবে সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন। ইতোমধ্যে ৩০ জানুয়ারী শহীদ সোহরাওয়ার্দী গ্রেফতার হলে টার্গেটের তারিখ এগিয়ে আনা হয়। ঠিক হয় ১ ফেব্রুয়ারী ছাত্র ধর্মঘট ডাকা হবে। রনোসহ অন্যান্যরা এই ধর্মঘটের ব্যবস্থা করেন। ১ ফেব্রুয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ধর্মঘট হয় এবং ঐদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় যে ছাত্র সভা হয়েছিল, সেখানে একজনই বক্তা ছিলেন হায়দার আকবর খান রনো। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তিনিই প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য রেখেছিলেন।
৬২ সাল জুড়ে যে ঐতিহাসিক সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন ও পরবর্তীতে শিক্ষা আন্দোলন হয় রনো তার নেতৃত্বে ছিলেন। তখনো পর্যন্ত কোন সংগঠিত ছাত্র সংগঠন ছিল না। ছাত্র নেতারা ঠিক করলেন ১৯৫২ সালে গঠিত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নকে (যা ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসনের পর বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিলো) পুনর্জীবিত করা হোক। বস্তুতঃ পুরাতন নাম গ্রহণ করলেও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নকে নতুন করে গঠন করা হয়েছিল।
অক্টোবর মাসে এক সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এই সংগঠনের পুনর্জন্ম হয়েছিল। ঐ সম্মেলনে হায়দার আকবর খান রনো ৬২-এর আন্দোলনের উপর রাজনৈতিক রিপোর্ট পেশ করেন। ডাঃ আহমদ জামান’কে সভাপতি, কাজী জাফর আহমদ’কে সাধারণ সম্পাদক ও হায়দার আকবর খান রনোকে যুগ্ম সম্পাদক করে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ৬২ সালে রনো দুইবার গ্রেফতার হয়েছিলেন। ৬২-এর মার্চ মাসে তাঁকে গ্রেফতার করে প্রথমে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে রাখা হয়েছিল। পরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। যেখানে ছাব্বিশ সেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও তিনি একত্রে ছিলেন।
পরের বছর ১৯৬৩ সালে হায়দার আকবর খান রনো পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বে ও দক্ষ সাংগঠনিক যোগ্যতার কারণে সেই সময় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন ক্ষুদ্র অবস্থা থেকে দেশের সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠনে পরিণত হয়েছিল। ছাত্র আন্দোলনের কারণে ১৯৬৪ সালে তাঁর নামে হুলিয়া বের হয়, যা তখনকার সকল পত্রিকায় প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছিল। তিনি আত্মগোপনে গেলেন। কিন্তু দুই মাস পর ধরা পড়েন। তাঁকে গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়ে দুই দিন ও দুই রাত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাখা হয়েছিল। ঘুমাতে দেয়া হয়নি তাঁকে। মাথার উপর রাখা হয়েছিল অনেক পাওয়ারের বৈদ্যুতিক বাতি।
১৯৬৫ সালে তাঁর জেলে থাকাকালেই ছাত্র ইউনিয়নের একাংশকে (মেনন গ্রুপ) সংগঠিত করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। ইতোমধ্যে ১৯৬৫ সালে তিনি রেল ধর্মঘটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন এবং আবার স্বল্পকালের জন্য কারারুদ্ধ হন। জেলে থাকা অবস্থায় তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, মুক্তির পর তিনি আর ছাত্র সংগঠন করবেন না এবং সরাসরি শ্রমিক বা কৃষক আন্দোলনের সাথে যুক্ত হবেন। ১৯৬৬ সালে তিনি সরাসরি শ্রমিক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন।
শ্রমিক আন্দোলন:
১৯৬৬ সালে কাজী জাফর আহমদ ও হায়দার আকবর খান রনো টঙ্গী শ্রমিক এলাকায় শ্রমিক আন্দেলনের সঙ্গে যুক্ত হন। এই দুইজন একত্রে টঙ্গী অঞ্চলে যে শ্রমিক আন্দেলন গড়ে তুলেছিলেন তা বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়।
হায়দার আকবর খান রনো ঢাকার বাসা ছেড়ে টঙ্গীর শ্রমিক বস্তিতে বাস করতে শুরু করেন। সাপ্তাহে এক আধবার ঢাকায় আসতেন রাজনৈতিক কারণে। মধ্যবিত্ত ঘর থেকে আসা রাজনৈতিক কর্মীর নিজস্ব বাড়ী-ঘর ছেড়ে শ্রমিক বস্তিতে দিনের পর দিন থেকে তৃণমূল পর্যায়ে শ্রমিক আন্দোলন ও বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তোলার ঘটনা আমাদের দেশে খুব বেশী নেই। রনোর এই জীবন বিপ্লবীদের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
গ্রেফতারী পরওয়ানা এড়িয়ে তিনি শ্রমিক কলোনী বা বস্তিতে বাস করতেন। টঙ্গীতে যে ধরণের শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছিল তাতে এবং শ্রমিকদের মধ্যে তাঁর যে ধরণের বিশাল জনপ্রিয়তা ছিল, তাতে টঙ্গী অঞ্চল থেকে পুলিশের পক্ষে খুব বড় রকমের প্রস্তুতি ও ঝুঁকি নেয়া ছাড়া তাঁকে গ্রেফতার করা সহজ ছিল না। এরপর তিনি আর কখনো গ্রেফতার হননি। তবে আত্মগোপনে গেছেন অনেকবার।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানেও তাঁর ভূমিকা ছিল। একদিকে টঙ্গীতে শ্রমিক আন্দোলন, পাশাপাশি জাতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনে সংগঠকের ভূমিকা দুটোই পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন। ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে টঙ্গী থেকেই শুরু হলো ঐতিহাসিক ঘেরাও আন্দোলন। এই আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। পরে ঘেরাও আন্দোলন অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। রনোকে তখন টঙ্গীর বাইরে অন্যান্য শ্রমিক অঞ্চলেও যেতে হয়েছে সংগঠন গড়ে তুলতে ও নেতৃত্ব দিতে। বলা যেতে পারে তাঁর নেতৃত্বে এক নতুন ধারার শ্রমিক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল।
১৯৬৯-৭০ সালে দ্বিতীয় সামরিক শাসন আমলে টেক্সটাইল শ্রমিকদের যে ঐতিহাসিক দুইমাস ব্যাপী বেআইনী ধর্মঘট হয়েছিল রনো ছিলেন তার নেতৃত্বে। টঙ্গী অঞ্চলে অসংখ্য বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে সেনাপতির ভূমিকা পালন করেছিলেন এই সাহসী নেতা হায়দার আকবর খান রনো। সেসব ঘটনা এখনো কিংবাদন্তির মতো রয়েছে। ১৯৭০ সালে তিনি তদানিন্তন সর্ববৃহৎ শ্রমিক সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।
রাজনৈতিক আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও কমিউনিস্ট আন্দোলন:
ছেলে বেলায় পারিবারিক সূত্রে তিনি কমিউনিস্ট মতাদর্শের সংস্পর্শে আসেন। কিছু কিছু মার্কসবাদী গ্রন্থ তিনি স্কুলজীবনে কলকাতা থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯৬৫ সালের আগে এদেশে মার্কসবাদী সাহিত্য নিষিদ্ধ ছিল। ১৯৬০ সালে তিনি গোপন কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন। ১৯৬৬ সালে গোপন কমিউনিস্ট পার্টি আন্তর্জাতিক মতবিতর্কের ফলে বিভক্ত হলে তিনি চীনপন্থী অংশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। পরবর্তী দুই বছরে ঐ অংশ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়। ১৯৬৯ সালে তিনি জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেনন সহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে একত্রে গঠন করেন কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলা সমন্বয় কমিটি।
১৯৭১ সালে এই সমন্বয় কমিটির নেতৃত্বে বাংলাদেশে বিভিন্ন এলাকায় ১৪টি সশস্ত্র ঘাঁটি তৈরী হয়েছিল। এই সকল অঞ্চলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ও রাজনৈতিক পরিচালনা এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করার কাজে তিনি নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ অন্যান্য সহকর্মীদের সঙ্গে তিনি শিবপুর যান যেখান থেকে পরবর্তীতে সমন্বয় কমিটির নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র ঘাঁটি অঞ্চলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হতো। শিবপুরের সমন্বয় কমিটির অন্যতম সদস্য মান্নান ভুঁইয়ার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল বিশাল মুক্তিবাহিনী এবং ঘাঁটি অঞ্চল। সেখান থেকে তিনি এবং কমরেড রাশেদ খান মেনন নানা পথ ঘুরে টাঙ্গাইলের বিন্নাফুর গ্রামে গিয়েছিলেন মাওলানা ভাসানীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে (৩ এপ্রিল, ১৯৭১)। পরদিনই মাওলানা ভাসানীর বাসা পাক বাহিনী কর্তৃক আক্তান্ত হয়েছিল। একদিন পরেই ভাসানীর সঙ্গে কমরেড রনো ও কমরেড মেনন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। যুদ্ধের সময় অনেক চেষ্টা করেও তারা আর যোগযোগ করতে পারেননি।
১৯৭১-এর ১ ও ২ জুন কলকাতার বেলেঘাটায় ভারতের মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির সহায়তায় বামপন্থীদের এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় যেখানে বাংলাদেশ জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি গঠিত হয়েছিল। হায়দার আকবর খান রনো এই কমিটির ঘোষাণাপত্র রচনা ও পেশ করেছিলেন।
ছাত্রজীবন থেকেই মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে আসার সুযোগ তাঁর হয়েছিল। পরবর্তী জীবনে তিনি মাওলানা ভাসানীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯৭১ সালেই রনোর পরিচয় ঘটে ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কমরেড মুজফফর আহমদসহ ভারতের মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির বিভিন্ন নেতার সাথে। কমরেড রনোর সঙ্গে অনেক বিদেশী কমিউনিস্ট ও ওয়ার্কার্স পার্টির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল ও আছে। কমিউনিস্ট পার্টিসমুহের অনেক আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও তিনি যোগদান করেছেন।
১৯৭৩ সালে কমরেড রনো ও অন্যান্য সহকর্মীরা মিলে গঠন করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (লেনিনবাদী)। পরে ১৯৭৯ সালে পার্টির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। প্রথম থেকেই তিনি পলিটব্যুরোর সদস্য ছিলেন। ১৯৭৯-৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০৯ সালে কমরেড রাশেদ খান মেননের সাথে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত বিরোধ তৈরি হলে তিনি ওয়ার্কার্স পার্টির একাংশ নিয়ে কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হন। ঐ পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। তিনি কমিউনিস্ট ঐক্যের জন্য চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
মাওলানা ভাসনীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হলেও এবং বিভিন্ন সময় ন্যাপের কর্মকান্ডে ভূমিকা রাখলেও তিনি কখনও ন্যাপের সভ্য হননি। ১৯৭৪ সালে ইউপিপি গঠিত হলে তিনি তাঁর সহ-সভপতি ছিলেন ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত। সুদীর্ঘ রাজনৈতিকজীবনে জাতীয় পর্যায়ের সকল রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে তিনি যে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময় তিনি বুর্জোয়া সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন এবং প্রতিটি রাজনৈতিক প্রশ্নে শ্রমিক শ্রেণীর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন তত্ত্বগতভাবে এবং বাস্তব সাংগঠনিক আন্দোলনগত কাজের মধ্য দিয়ে। রনোর মধ্যে বাস্তব সংগ্রাম ও তত্ত্বেও সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়। সাহস, দৃঢ়তা, কৌশলগত নমনীয়তা ও বুদ্ধিমত্তার এক অর্পূব সমন্বয় দেখা যায়।
এরশাদ সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে তিনি প্রথম থেকেই নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেছেন। সাতবার তাঁর নামে হুলিয়া জারী হয়েছে। প্রতিবারই তিনি আত্মগোপনে থেকে আন্দোলনকে সংগঠিত করেছেন। এরশাদ আমলের নয় বছরে তাঁর বাসায় পঞ্চাশ বারের বেশী মিলিটারী পুলিশ রেইড করেছিল। ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের তিনি ছিলেন অন্যতম রূপকার।
লেখালেখি:
কমরেড রনো একদিকে জননেতা, অপরদিকে তাত্ত্বিক ও লেখক। রাজনীতি, অর্থনীতি, দর্শন এমনকি সাহিত্য ও বিজ্ঞানের উপরও তাঁর অজস্র লেখা আছে। মাত্র ২৪ বছর বয়সে ‘সাম্রাজ্যবাদের রূপরেখা’ নামে প্রথম বই লেখেন তিনি। এটি ছিল পাকিস্তান আমলে মার্কসীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সাম্রাজ্যবাদ সংক্রান্ত বিশ্লেষণমূলক প্রথম তাত্ত্বিক গ্রন্থ।
এ পর্যন্ত প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ২৫টি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ১) শতাব্দী পেরিয়ে, ২) ফরাসী বিপ্লব থেকে আক্টোবর বিপ্লব, ৩) পুজিবাদের মৃত্যু ঘন্টা, (৪) সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের সত্তর বছর, ৫) গ্রাম শহরের গরীব মানুষ জোট বাধো, ৬) মার্কসবাদের প্রথম পাঠ, ৭) মার্কসীয় অর্থনীতি, ৮) মার্কসবাদ ও সশস্ত্র সংগ্রাম, ৯) সিপিবির বন্ধুদের প্রতি (পুস্তিকা), ১০) চীনপন্থী বন্ধুদের প্রতি (পুস্তিকা), ১১) শ্রেণী দৃষ্টিকোন থেকে রবীন্দ্রনাথ, ১২) মানুষের কবি রবীন্দ্রনাথ, ১৩) কোয়ান্টাম যগৎ – কিছু বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক প্রশ্ন, ১৪) বাংলা সাহিত্যের প্রগতির ধারা – প্রথম ও দ্বিতীয় খন্ড, ১৫) পলাশী থেকে মুক্তিযুদ্ধ – প্রথম ও দ্বিতীয় খন্ড, ১৬) মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীরা (সম্পাদিত), ২০) স্টালিন প্রসঙ্গে, ২১) অক্টোবর বিপ্লবের তাৎপর্য ও বর্তমান প্রেক্ষাপট, ২২) নির্বাচিত প্রবন্ধ সংকলন (প্রথম খন্ড)। একইসঙ্গে ‘মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীরা’ এবং ‘নারী ও নারীমুক্তি’ নামে দুটি বই সম্পাদনা করেছেন তিনি।
তাঁর কিছু কিছু বই ও প্রবন্ধ বিশেষ সময়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ২০০৫ সালে তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ “শতাব্দী পেরিয়ে” প্রথম আলোর নির্বাচনে বছরের সেরা বই হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছিল। তাঁর কিছু লেখা বিদেশী ভাষায় অনুদিত হয়েছে।
২০১৬ সালে বই মেলায় প্রকাশিত নতুন বই: ১. মানুষের কবি রবীন্দ্রনাথ- প্রকাশক, বাংলা একাডেমি। ২. বাংলা সাহিত্যে প্রগতির ধারা (প্রথম খন্ড) প্রকাশক, ছায়াবীথি। ৩. নির্বাচিত প্রবন্ধ সংকলন (প্রথম খন্ড), প্রকাশক, অগ্রদূত। ৪. উত্তাল ষাদের দশক।
অন্যান্য:
হায়দার আকবর খান রনো খুব সরল জীবনযাপন করেন। নিরহংকারী মানুষটি সহজ সরলভাবে মিশতে পারেন যে কোন সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে এবং সকলেই তাঁর আন্তরিকতার স্পর্শে মুগ্ধ হন। বিশেষ করে যে গরীব জনগোষ্ঠীর মধ্যে তিনি কাজ করেন, তারা তাঁকে আপন বলে গ্রহণ করতে পারে রনোর নিজস্ব চারিত্রিক ও আচরণগত বৈশিষ্টের কারণে।
একমাত্র রাজনীতি ছাড়া অন্য কোন পেশাও তার ছিল না। তিনি ছিলেন সার্বক্ষনিক রাজনীতিবিদ। তবে খবরের কাগজে কলম লেখা ও প্রকাশিত বইয়ের থেকে তিনি কিছু অর্থ উপার্জন করেছেন।
আগ্রহের বিষয়:
তিনি সাহিত্য পড়তে ভালবাসেন। বাংলা ইংরেজী সাহিত্যের বহু কবিতা তাঁর এখনও মুখস্থ আছে। সুযোগ পেলেই তিনি ভালো সিনেমা ও নাটক দেখেন। ক্রিকেট খেলায় তাঁর আগ্রহ আছে।
কমিউনিস্ট আন্দোলনের কিংবদন্তী কমরেড হায়দার আকবর খান রনো স্মরণে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা—
“কমরেড রনো লাল সালাম”
লাল মাটির পথ বেয়ে যে মানুষটি হেঁটেছিলেন নির্ভীক, শোষিতের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন অনতিক্রম্য ঠিক, ইতিহাসের বুকের ভিতর দীপ্ত অগ্নিশিখার মতো, কমরেড রনো, তোমার নাম আজও উচ্চারিত অনন্য।
কলকাতার ভোরের আকাশ, যুদ্ধবিধ্বস্ত কালো দিন, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের মাঝে জন্ম নিলে তুমি সেদিন, চিত্রা নদীর জলে ভেসে এলো এক দুরন্ত আহ্বান, নড়াইলের মাটির ঘ্রাণে জেগে উঠল ভবিষ্যৎ গান।
নওশের আলীর রক্তধারা, ইতিহাসের উত্তরাধিকার, পিতার সততা, মায়ের স্নেহ, সংগ্রামী জীবনের অঙ্গার, বাল্যকালেই চোখে দেখলে বৈষম্যের নির্মম রূপ, একদিকে প্রাসাদের আলো, অন্যপাশে অনাহার ধূপ।
স্কুলের বেঞ্চে বসে বসে পড়তে শেক্সপিয়ার-রবীন্দ্রনাথ, মাইকেলের বজ্রকণ্ঠ, নজরুলের বিদ্রোহী প্রভাত, কিশোর বুকে জমে উঠল প্রশ্নের পর প্রশ্ন ধীরে, মানুষ কেন বাঁচে শৃঙ্খলে, কেন রক্ত ঝরে নীরে?
মেধার দীপ্ত শিখা হাতে এগিয়ে গেলে শিক্ষার পথে, সেন্ট গ্রেগরীর উজ্জ্বল ছাত্র, শ্রেষ্ঠদেরও শীর্ষমতে, নটরডেমের দিন পেরিয়ে ঢাবির প্রাঙ্গণে এলে, পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র ভেঙে সমাজতন্ত্র খুঁজে নিলে।
তোমার কণ্ঠ বজ্রের মতো কাঁপিয়ে দিত কালো রাত, সামরিক শাসনের বুকে লিখতে তুমি বিদ্রোহের প্রভাত, আমতলার সেই ছাত্রসভায় একা দাঁড়িয়ে উচ্চারণ, “স্বৈরাচারের দিন ফুরাবে”— জ্বাললে মুক্তির স্পন্দন।
ফেব্রুয়ারির উত্তাল দিনে ছাত্রজনতার অগ্নি ঢেউ, রনো নামে তরুণ নেতা ভয়কে কোনোদিন মানেন নি কেউ, গ্রেপ্তার এল, কারাগারের লোহার ফটক বন্ধ হল, কিন্তু বন্দী দেয়াল ভেদে মুক্ত কণ্ঠ আরও জ্বলল।
ঢাকা জেলের অন্ধকারে বঙ্গবন্ধুর সেলের পাশে, স্বপ্ন দেখলে স্বাধীন দেশের, মানুষের মুক্তির আশে, শুধু পতাকা নয়, প্রয়োজন শোষণহীন নতুন ভোর, শ্রমিক-কৃষক হাতে গড়া সমতারই বাংলাদেশ ঘোর।
ছাত্র ইউনিয়নের পতাকাতে লাল সূর্যের দীপ্তি নিয়ে, তুমি এলে সংগঠকের বেশে অগ্নি-শপথ হৃদয় দিয়ে, ক্ষুদ্র দলকে জনসমুদ্রে রূপান্তরের জাদুকর, তোমার ডাকে রাজপথজুড়ে জেগে উঠত অগ্নিঘর।
সিয়াটো বৃত্তির সবটুকু দান করলে পার্টির তরে, নিজের চেয়ে আদর্শ বড়— এ শিক্ষা দিলে অন্তরে, ক্ষমতার নয়, সংগ্রামেরই ছিল তোমার পরিচয়, জীবনভর নিঃস্ব হয়েও ইতিহাসে হলে অমর জয়।
টঙ্গীর বস্তি, শ্রমিক কলোনি, কারখানার ঘামভেজা রাত, মধ্যবিত্ত ঘর ছেড়ে তুমি বেছে নিলে কণ্টকপথ, শ্রমিকদের ভাঙা কুঁড়েতে বসে লিখলে বিপ্লবী গান, তাদের ক্ষুধা, তাদের কান্না, তাদের স্বপ্ন করলে জ্ঞান।
ঘেরাও আন্দোলনের ডাকে কাঁপল তখন শাসকের সিংহাসন, কারখানার গেটে গেটে উঠল নতুন মুক্তির ভাষণ, শ্রমিক হাতে লাল পতাকা, কণ্ঠে বজ্রের দৃপ্ত সুর, রনো নামে টঙ্গীর পথে জন্ম নিল ইতিহাস ভরপুর।
কাজী জাফর, মেনন পাশে, জ্বলল রাজনীতির দীপ, স্বপ্ন ছিল জনগণেরই রাষ্ট্র গড়ার কঠিন নকশীপ, সাম্যের বীজ বপন করে এগিয়ে গেলে দিগন্ত ছুঁয়ে, শোষকেরা বুঝতে শিখল ভয় কাকে বলে রক্ত বেয়ে।
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, উত্তাল রাজপথের ঢেউ, শ্রমিক-ছাত্র ঐক্য গড়ে আগুন ছড়াল সর্বত্র নেউ, আইয়ুবের সিংহাসন তখন কাঁপছিল জনতার রোষে, রনোর কণ্ঠ ধ্বনিত হতো প্রতিটি শপথ, প্রতিটি ধাপেই।
স্বাধীনতার পূর্ববাংলা স্বপ্নে তুমি বলেছিলে তখন, শুধু ভূখণ্ড নয়, প্রয়োজন মুক্ত মানুষের বিপ্লব মন, স্বাধীনতা যদি না আনে ক্ষুধার রুটির অধিকার, তবে সে কেবল মানচিত্রে আঁকা শাসকের আরেক দ্বার।
একাত্তরের কালরাতে যখন জ্বলল বাংলার ঘর, তুমি নেমে গেলে যুদ্ধপথে বুকের ভিতর আগুন ভর, শিবপুর থেকে সীমান্তপথ, ঘাঁটি থেকে মুক্তিযুদ্ধ, অস্ত্র হাতে সংগঠকের দৃপ্ততায় হয়েছিলে শুদ্ধ।
মাওলানা ভাসানীর সাথে বিন্নাফুরের নিভৃত গ্রাম, ঝড়ের ভেতর পরিকল্পনায় উচ্চারিত স্বাধীন নাম, পাকবাহিনীর বর্বর ছায়া ঘিরে ফেলল চারদিক, তবু পিছু হটনি কখনো, সংগ্রাম ছিল অবিচল ঠিক।
কলকাতার সম্মেলনে লিখলে মুক্তিযুদ্ধের শপথ, বামপন্থীদের ঐক্য গড়ে দৃঢ় করলে সংগ্রাম রথ, জাতীয় মুক্তি, শ্রেণিমুক্তি— দুইয়ের মাঝে সেতুবন্ধন, রনো মানে আদর্শপথে জীবনভর অবিচল সংগ্রাম।
স্বাধীন দেশে থেমে যাওনি, শুরু হলো নতুন লড়াই, সামরিকতন্ত্র, লুটেরাদের বিরুদ্ধে তোমার কণ্ঠ সদাই, স্বাধীন পতাকার নিচেও দেখলে শোষণের কালো মুখ, তাই তো বললে— জনগণের রাষ্ট্র ছাড়া সবই দুঃখ।
ওয়ার্কার্স পার্টির রণকৌশল, তত্ত্ব, দর্শন, সংগঠন, তোমার মেধার গভীরতায় পেল সংগ্রামের দিকনির্দেশন, শুধু রাজনীতি নয়, প্রয়োজন সংস্কৃতিরও মুক্ত ধারা, তোমার লেখায় জেগে উঠল বিজ্ঞানমনস্কতার সাড়া।
“সাম্রাজ্যবাদের রূপরেখা” হাতে তুলে নিল তরুণ দল, “পুঁজিবাদের মৃত্যু ঘণ্টা” বাজল যেন বজ্র বিকল, “মার্কসবাদের প্রথম পাঠ” খুলে দিল চিন্তার দ্বার, শ্রমিক-কৃষক বুঝল তখন ইতিহাসের রক্তধার।
“ফরাসি বিপ্লব” থেকে তুমি “অক্টোবর” অবধি গেলে, মানুষ কেমন জেগে ওঠে, সে ইতিহাস হাতে নিলে, “সোভিয়েতের সত্তর বছর” বিশ্লেষণে অনন্য দীপ, সংগ্রাম-সাফল্য মিলিয়ে তুমি দেখলে ইতিহাসের নীপ।
রবীন্দ্রনাথকে শ্রেণিদৃষ্টিতে নতুনভাবে পড়লে তুমি, মানুষের কবি বলে তাকে তুলে ধরলে বাংলাভূমি, সাহিত্য আর রাজনীতিকে করেছিলে একাকার, চিন্তার ভিতর মুক্তির পথ খুঁজলে বারংবার।
কোয়ান্টামের রহস্যময় জগৎ থেকেও দর্শনের সুর, তোমার কলমে বিজ্ঞানের সাথে যুক্ত হয়েছে মানব নূর, বাংলা সাহিত্যের প্রগতিরধারা খুঁজলে ইতিহাস ঘেঁটে, চিন্তার জগৎ প্রসারিত হল নতুন প্রশ্ন জাগিয়ে বুকে।
এরশাদের স্বৈরতন্ত্রে যখন ভীত ছিল চারদিক, তুমি তখন আত্মগোপনে আন্দোলনের অগ্নিশিখ, বারে বারে হুলিয়া এল, পুলিশ ঘিরল তোমার ঘর, কিন্তু রনো থামেনি তবু, আরও দৃঢ় হল অন্তর।
নব্বইয়ের সেই গণঅভ্যুত্থান জনতার জয়ের গান, তোমার কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল সংগ্রামের আহ্বান, স্বৈরাচারের পতন হলো, রাজপথ পেল নতুন রং, তবু তোমার প্রশ্ন রয়ে গেল— বদলালো কি শোষণের ঢং?
ক্ষমতার মোহ তোমায় কোনোদিন টলাতে পারেনি কভু, সরল জীবন, সাধারণ বেশ, তবু চিন্তার মহীরুহ, শ্রমিকের ঘরে বসে তুমি চা খেতে খেতে বলেছো কথা, রাজনীতি মানে মানুষেরই মুক্তির পথে দৃঢ় কন্ঠ।
যে মানুষটি বইয়ের পাতায় তত্ত্ব লিখেছেন গভীর করে, সেই মানুষটি কারখানাতে থেকেছেন শ্রমিকদের ঘরে, এই সমন্বয় দুর্লভ খুব, ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত, তাই তো রনো কেবল নেতা নন, সংগ্রামের মহাগ্রন্থ।
দীর্ঘ অসুখ, অক্সিজেনের যন্ত্রনির্ভর ক্লান্ত দেহ, তবু চোখে ছিল আগামীরই সমাজতান্ত্রিক পথের গেহ, শেষ নিশ্বাসের আগমুহূর্তেও হয়তো ভেবেছ নীরব মনে, “মানুষ জাগুক, শোষণ ভাঙুক”— ভবিষ্যতের লাল স্বপনে।
দশই মে’র সেই দিবাগত রাতে থেমে গেল জীবনের গান, কিন্তু থামল না ইতিহাসে তোমার রেখে যাওয়া মান, হেলথ অ্যান্ড হোপের নীরব কক্ষ সাক্ষী হলো বিদায়ের, বাংলার বুকে লাল পতাকা কাঁদল শোকের অশ্রুধারায়।
রানা সুলতানার চোখের জলে ভেসে উঠল সংগ্রাম দিন, সহযোদ্ধার স্মৃতির ভিতর জেগে রইল রক্তঋণ, শ্রমিক বস্তি, ছাত্রমিছিল, কারাগারের গুমোট রাত, সবাই যেন বলল একসাথে— “কমরেড, তুমি অমর প্রভাত।”
বাংলা একাডেমির সম্মানও তোমার কীর্তির তুল্য নয়, কারণ তোমার প্রকৃত পুরস্কার জনতার অফুরান জয়, যে শ্রমিক আজ মাথা তোলে অধিকার চেয়ে পথে নামে, তোমার সংগ্রাম জেগে থাকে তাদের বুকের প্রতিটি থামে।
আজকে যখন পুঁজির দম্ভে কাঁপে পৃথিবীর মানবতা, ধর্মান্ধতা, যুদ্ধ, লোভে ক্ষতবিক্ষত সভ্যতা, তখন রনো, তোমার লেখা নতুন করে পথ দেখায়, সমতারই রাজনীতি ছাড়া মানবমুক্তি আর না হয়।
যুবক যারা রাজপথ খোঁজে, প্রশ্ন করে রাষ্ট্রকাঠামো, তোমার জীবন শেখায় তাদের আদর্শ ছাড়া সবই থমো, ত্যাগ ছাড়া যে বিপ্লব আসে না ইতিহাসের পাতায়, এই শিক্ষাটি রনো ভাই আজও আগুন হয়ে জ্বালায়।
তুমি ছিলে মার্কসের ভাষ্য বাংলারই জনজীবনে, লেনিনের দৃঢ় সংগঠনের স্বপ্ন নিয়ে মাঠের বনে, মাওলানা ভাসানীর পাশে কৃষকেরই অধিকারের গান, রনো মানে বাংলার বুকে সংগ্রামী এক মহাকাব্যান।
শোষিত মানুষের ইতিহাসে তোমার নাম উজ্জ্বল তারা, রাত্রি যত গভীর হোক না কেন জাগাবে নতুন ধারা, কারখানার সাইরেন বাজলে, মাঠে উঠলে কৃষকের ঢেউ, তোমার স্মৃতি লাল পতাকায় উচ্চারিত হবে নিত্য নেউ।
যে শিশুটি আজ ক্ষুধার্ত চোখে তাকিয়ে থাকে শহরজুড়ে, যে শ্রমিকটি বাঁচার লড়াই লড়ে কারখানার ধোঁয়ার ঘেরে, যে কৃষকটি ন্যায্যমূল্য চেয়ে রৌদ্রদগ্ধ পথে হাঁটে, তোমার রাজনীতি তাদেরই মুক্ত ভবিষ্যৎ গড়তে চায় তাতে।
তোমার জীবন প্রমাণ করে বিপ্লব শুধু স্লোগান নয়, এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষয়, এটি শ্রমিকের ঘামে লেখা, কৃষকের মাটির গান, এটি ইতিহাস বদলে ফেলার দুর্বার রক্তঅভিযান।
আজ দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে লাল সালামের শপথ ধরি, তোমার অসমাপ্ত সংগ্রামের পথেই আবার হব যাত্রী, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় বুকের মাঝে, কমরেড রনো, তোমার স্মৃতি লাল সূর্যের মতো সাজে।
যতদিন থাকবে অন্যায়, ততদিন থাকবে তোমার নাম, যতদিন শোষিত মানুষের চোখে জ্বলবে মুক্তির ঘ্রাণ, যতদিন লাল পতাকার নিচে জড়ো হবে সংগ্রামী জন, ততদিন রনো বেঁচে থাকবে বিপ্লবী প্রতিটি স্পন্দন।
লাল সালাম কমরেড রনো, লাল সালাম সংগ্রামের প্রাণ, লাল সালাম শ্রমিক-কৃষক, লাল সালাম মুক্তির গান।
লাল সালাম তোমার স্বপ্নে, লাল সালাম তোমার পথ, বাংলার মাটি উচ্চারণ করুক— “রনো মানে অমর রথ।”
—(কমরেড রনো লাল সালাম,—সৈয়দ আমিরুজ্জামান)
মহান ও কীর্তিমান মানুষদের নিয়ে সব সময়ই লেখা যায় আমরা এটা বিশ্বাস করি। পরিশেষে, সমাজতন্ত্র অভিমুখী অসাম্প্রদায়িক জনগণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সমতা-ন্যায্যতার প্রশ্নে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনেই বিশ্বজনীন মহান এই গুণীর রাজনীতি, জীবন সংগ্রাম, কীর্তি, ইতিহাস, তত্ত্ব ও অনুশীলন সম্পর্কে পাঠ প্রাসঙ্গিক ও জরুরী।
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও তৎকালীন স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলার প্রবক্তা, বিশিষ্ট বামপন্থী নেতা, কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম প্রবাদ পুরুষ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড হায়দার আকবর খান রনো ভাই লাল সালাম! দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে আবারও আপনার প্রতি অতল শ্রদ্ধা ও অভিবাদন!
#
সৈয়দ আমিরুজ্জামান
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট;
বিশেষ প্রতিনিধি, দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট (ইংরেজি দৈনিক) ও সাপ্তাহিক নতুনকথা;
সম্পাদক, আরপি নিউজ;
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতি;
‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী।
সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন।
সাধারণ সম্পাদক, মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি।
প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ আইন ছাত্র ফেডারেশন।
E-mail : syedzaman.62@gmail.com
WhatsApp : 01716599589

