দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক স্নায়ুযুদ্ধের পর বিশ্ব রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে চীন। গত ২৪শে এপ্রিল ইরানের তেল আমদানির অভিযোগে চীনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানি ও শিপিং লাইনের ওপর আমেরিকা কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও, এবার বেইজিংয়ের প্রতিক্রিয়া ছিল নজিরবিহীন। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমেরিকার একতরফা স্যাংশনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে নিজস্ব আইনি ঢাল ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে চীন।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের ক্রুড অয়েল রিফাইন ও পরিবহনের দায়ে Hengli Petrochemical (Dalian) সহ একাধিক চীনা রিফাইনারি ও শিপিং প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সরাসরি জানায় যে, তারা এই একতরফা সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা করে না। চীন তার কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও তেল আমদানি অব্যাহত রাখে। এই সাহসী অবস্থানের পেছনে রয়েছে চীনের ‘অ্যান্টি-ফরেন স্যাংশন ল’ এবং ব্লকিং রুলস, যা ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো তারা আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে।
ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এবারের লড়াই কেবল তেলের চালানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। চীন এখন তেলের লেনদেনে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে পেট্রো-ইউয়ান ব্যবহার করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের একক আধিপত্যের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে। আল জাজিরা ও ব্লুমবার্গের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই ঘটনাকে চীনের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রকাশ্য ও চ্যালেঞ্জিং পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে।
চীনের এই নতুন অবস্থানকে বিশেষজ্ঞরা ইতিহাসের একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছেন। এর আগে চীন মৌখিকভাবে প্রতিবাদ করলেও এবারই প্রথম ব্লকিং অর্ডারের মাধ্যমে আইনিভাবে মার্কিন পদক্ষেপকে অকার্যকর করার চেষ্টা করছে। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞাকে এভাবে প্রকাশ্য অবজ্ঞা করার মাধ্যমে চীন বিশ্বকে এই বার্তাই দিচ্ছে যে, একক সুপার পাওয়ার হিসেবে আমেরিকার একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন ফুরিয়ে আসছে। এই ঐতিহাসিক বিরোধিতা ভবিষ্যতে বিশ্বের আরও অনেক দেশকেও আমেরিকার একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহস জোগাবে।

