মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি রাশিয়া, চীন ও তুরস্ককে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান সংকটের সময় বিশ্বের প্রভাবশালী এই তিন দেশ নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়নি। তিনি এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ভূয়সী প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, আঞ্চলিক বাস্তবতায় তুরস্ক চাইলে সংঘাতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারত। তবে তার অনুরোধের পর এরদোয়ান যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। ট্রাম্প তাকে দৃঢ় নেতৃত্ব ও সামরিক দূরদর্শিতার অধিকারী নেতা হিসেবে বর্ণনা করেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্পর্কেও ইতিবাচক মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের সঙ্গে চীনের বড় অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত থাকা সত্ত্বেও বেইজিং সংঘাতে সরাসরি অংশ নেয়নি। এ জন্য তিনি শি জিনপিংয়ের ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, মস্কোও সংঘাত থেকে দূরে থেকেছে। তার মতে, রাশিয়ার নিজস্ব বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক বিষয় থাকলেও এই সংঘাতে সামরিকভাবে জড়িয়ে না পড়ার সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক ছিল।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন, রাশিয়া ও তুরস্কের নিরপেক্ষ অবস্থান সম্ভাব্য বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করেছে এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

