ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত বর্ধিত কমিটিকে কেন্দ্র করে চরম অস্থিরতা ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। নিবেদিতপ্রাণ ও ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়ন করে একসময়ের কট্টর বিএনপি-বিরোধী এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এছাড়াও, আহ্বায়ক পিয়াল এবং সদস্য সচিব মিল্লাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তাঁরা নিজেদের অনুসারীদের বাইরের অনেক নিবেদিতপ্রাণ ও যোগ্য কর্মীকে পদ থেকে বঞ্চিত করেছেন। এতে কলেজের ছাত্রদলের সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই নানা উপায়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আমাদের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় অনেক তরুণ ছাত্রদলের রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, যেহেতু আমরা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এর অনুসারী না এবং তাদের অন্যায় ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করিনি, তাই এত বড় একটি কমিটিতে আমাদের অনুসারীদের কোনো পদ দেওয়া হয়নি।
একাধিক মামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও আজ তারা তাদের পদ থেকে বঞ্চিত।”
অন্যদিকে, ৫ই আগস্টের আগে ও পরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না এমন ব্যক্তিদেরও পদ দেওয়া হয়েছে। বর্ধিত কমিটির পদ থেকে বঞ্চিত এক নেতা বলেছেন যে, আজ আমাকে তারা মূল্যায়ন করেনি, কারণ আমি তাদের অনুসারী না। সংগঠন একদিন এর পরিণাম বুঝবে, কিন্তু সেদিন কিছুই করার থাকবে না।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের এক প্রাক্তন সভাপতি বলেন, “ঢাকা কলেজ ছাত্রদল ও কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক প্রাক্তন বড় নেতা এখন একাই রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন!! কমিটির মেয়াদ শেষ হলেই অনেকে আসল চিত্র দেখতে পাবেন। শুধু সময়ের অপেক্ষা।” তিনি বর্তমান নেতৃত্বকে বলেন: “যদি নিবেদিতপ্রাণ ও যোগ্য কর্মীদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে রাজনীতি এক কঠিন সংকটের সম্মুখীন হবে। তাদের খোঁজখবর নেওয়ার কেউ থাকবে না।

রাস্তায় দেখলে তাদের অভিবাদনও জানানো হবে না। যারা নিবেদিতপ্রাণ ও যোগ্য কর্মীদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেননি, তাদের রাজনৈতিক নেতা ছাড়া অন্য কিছু বলা উচিত। দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করার জন্যই দেওয়া হয়েছে, যদি তা সঠিকভাবে ব্যবহার না করা হয়, তাহলে এর ফলাফল মোটেও ভালো হবে না।”
বিএনপি-সমর্থক একজন শিক্ষক মনে করেন যে, বর্তমান কলেজ ছাত্রদল তার প্রকৃত নীতি ও আদর্শ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরা অযোগ্য, অদক্ষ এবং স্বার্থপর। তাদের অপকর্মের কারণে সংগঠনটি সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে অজনপ্রিয় ও একঘরে হয়ে পড়ছে।
তাদের মানসিকতা বর্তমান ছাত্র মনোভাব থেকে অনেকটাই ভিন্ন। ফলে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ভিন্ন আরেক ছাত্র সংগঠনের এক নেতা মনে করেন যে, একটি কঠিন সংকট মোকাবেলার জন্য সঠিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা অপরিহার্য। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ছাত্রদল ভবিষ্যতে যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে পারবে না এবং বর্তমান নেতারা সংকটের সময়ে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সামনেই মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যাবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নেতিবাচক কার্যকলাপে জড়িত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চাঁদাবাজি, ফুটপাথ দখল, পার্কিং দখল, হলের সিট দখল, নিজেদের মধ্যে মারামারি, পরিবহনে চাঁদাবাজি, বিভিন্ন অফিসে তদবির, ব্যবসায়ীদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন, বিনা টাকায় খাওয়া, পানি ও আবর্জনা ব্যবসা দখল ইত্যাদি। সবকিছু বিবেচনা করে এটা স্পষ্ট যে, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল সর্বকালের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও অযোগ্য নেতৃত্বের কবলে রয়েছে।

