নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
দেশের উত্তর অঞ্চলের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে এবার রেকর্ড পরিমাণ সবচেয়ে বেশি সরিষার চাষ হয়েছে যা লক্ষ মাত্রার চেয়েও কয়েক শত হেক্টর বেশি।সেই সাথে বাম্পার ফলনেরও সম্ভাবনা দেখছেন কৃষক ও স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তর। ফসল দেখে হাসি ফুটেছে চাষীদের মুখে,ফসলের মাঠে হলুদ ফুলের সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়েছে চারো দিকে।সেই ফুল থেকেই মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে মৌ চাষীরা।
আমন ধান কাটার পরে রবি মৌসুমের আগে পড়তি জমিতে সরিষার জন্য অনূকুল আবহাওয়া হওয়ায় অল্প দিনেই বেড়ে উঠে গাছ। আর সেই গাছের ফুল দেখে অধিক ফলনের স্বপ্ন দেখছেন রাণীশংকৈলের উপজেলার সরিষা চাষিরা। এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে উন্নত জাতের সরিষা চাষ হয়েছে এ উপজেলায়। গ্রাম বাংলার প্রকৃতির মাঠ এখন সরিষার হলদ ফুলে ছেয়েগেছে। স্বল্প খরচে অল্প সময়ে এ ফসল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কৃষক কৃষাণীদের মাঝে। হলুদ রঙের আর মিষ্টি মধুর সুবাসে ভরে গেছে সরিষার ক্ষেতগুলো। আর ফুল থেকে মৌমাছি দিয়ে খাঁটি মধু সংগ্রহে ব্যস্ত এ অঞ্চলের মোয়ালরা।
উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের কাদিহাট মালিবস্তি এলাকায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থেকে মৌ চাষী আব্দুস সাত্তার প্রায় শতাধিক মৌ বক্স নিয়ে এসেছেন সরিষা ফুল থেকে খাটি মধু সংগ্রহে জন্য। তিনি জানান এবার আমি এখানে ১৫/২০ দিন থাকবো এবং মধু সংগ্রহ করবো। তিনি বলন এখান থেকে প্রায় ১৫/২০ মন মধু সংগ্রহ করা যাবে।তবে ফুলে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানির রস না থাকায় এবার পরিমানে তুলনায় কম মধু সংগ্রহ হবে। এসব মধু বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারদের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও ব্যাপক চাহিদা বাড়ছে। তিনি আরো জানান, সংগ্রহ করা এসব মধু মাঠ থেকেই পাইকারীর পাশাপাশি কৃষকরা ৫ শত টাকা কেজির দরে বিক্রি করেন।
স্থানীয় মঞ্জুর আলম,মাহিম,সোহেল সহ আরাও অনেকে বলেন,আমরা সরিষার মৌসুমে ফসল ফলিয়ে যেভাবে আমরা ভোজ্য তেলের চাহিদা পুরণ করতে পারি ঠিক তেমনি ফুল থেকে মৌ চাষীদের মাধ্যমে নিজ এলাকা থেকেই ভেজাল মুক্ত খাটি মধু খেতে পারি।তাই আমাদের উচিৎ বেশি করে সরিষার চাষ বৃদ্ধি করা।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে পাওয়া তথ্য বলছে এবার উন্নত জাতের হাইব্রিড সরিষা
উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণে আবাদ হয়েছে। উন্নত জাতের মধ্যে রয়েছে, বারি সরিষা-৭,৮ সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৮, বারি সরিষা-২০ এছাড়াও বিনা সরিষা-৪, ৯, ১০, ১১, বাউ সরিষা-৪ থেকে ৮ উল্লেখযোগ্য, যেগুলি উচ্চ ফলনশীল, স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন (৯০-৯৫ দিন) এবং প্রচলিত জাতের তুলনায় বেশি তেল ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন, যা আধুনিক কৃষি ও অধিক মুনাফার জন্য উপযুক্ত।
কাশিপুর ইউনিয়নের পাটাগড়া গ্রামের কৃষক বাবুল হোসেন বলেন,এর আগে আমি সরিষার চাষ করিনি তবে এবারেই প্রথম আমি দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। এতে আমার বিঘা প্রতি ৫ হাজার করে খরচ হয়েছে আমি আশা করছি প্রতি বিঘা জমি থেকে ১৫ হাজার টাকা করে বিক্রি হবে আল্লাহ যদি ভালো ফসল দেই। নন্দুয়ার ইউনিয়নের বেল্লাল,বাচোর ইউনিয়নের মামুন ও হোসেনগা ইউনিয়নের লিটন আলী সহ অনেকে বলেন,আমন ধান কাটার পরে কৃষকদের বোরো ধান চাষের আগে যে কয়েক মাস জমি খালি পড়ে থাকে সে সময় টায় এই সরিষার আবাদ করে কৃষকরা। এই ফসল টি যেমন বছরের একটি বাড়তি ফসল তেমনি কৃষকদের জন্য মোটা অংকের একটি বাড়তি আয়ের সুযোগ হয়ে যায়।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে আরো জানাযায়, গত মৌসুমে বিভিন্ন জাতের ৬ হাজার ৪ শত ২৫ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছিল, কিন্তু এবার লক্ষ মাত্রা অতিক্রম করে ৭ হাজার ১ শত ২৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৭ শত হেক্টর জমিতে বেশি সরিষা আবাদ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন,এবার এ উপজেলায় ৮ ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় রেকর্ড পরিমাণে সরিষার চাষ হয়েছে। কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সব সময় সঠিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা আশা করছি এ বছর ঘন কুয়াশা কম থাকায় সরিষার ফসল ভালো হয়েছে।সেই সাথে আশা করছি যেভাবে ভালো ফলন দেখতে পাচ্ছি সেভাবে ফলন ও এবার বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ।

