রিপন মারমা রাঙ্গামাটি
জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’ এই চিরন্তন মৈত্রী বাণীর মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা’। বুদ্ধের ত্রিস্মৃতি বিজড়িত (জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপরিনির্বাণ) এই পবিত্র দিনে কাপ্তাইয়ের ঐতিহাসিক চিৎমরম বৌদ্ধ বিহারে ছিল পুণ্যার্থীদের আগমন ।
পাহাড়ের ঐতিহ্যের লীলাভূমি কাপ্তাই উপজেলাধীন ঐতিহাসিক চিৎমরম বৌদ্ধ বিহারে সকাল থেকেই ছিল উৎসবের আমেজ। দিনের কর্মসূচি শুরু হয় পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ, বুদ্ধ পূজা এবং পিন্ডদানের মধ্য দিয়ে। বিহারের অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে বরেণ্য ভিক্ষু ও ধর্মীয় পণ্ডিতগণ গৌতম বুদ্ধের অহিংসা ও সাম্যের দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা বর্তমান অশান্ত পৃথিবীতে বুদ্ধের মৈত্রী ভাবনার প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বোধিবৃক্ষে জলসেচন ও বিশেষ প্রার্থনা
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, গৌতম বুদ্ধ যে বৃক্ষের নিচে বসে বোধি বা জ্ঞান লাভ করেছিলেন, সেই স্মৃতিকে অম্লান রাখতেই পালিত হয় ‘জল ঢালা’ উৎসব।সকাল থেকে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত পুণ্যার্থী সারিবদ্ধভাবে জাদি প্রাঙ্গণে অবস্থিত অর্ধশতবর্ষী পবিত্র বোধিবৃক্ষে জলসেচন করেন।
সকালে পূজা ও ধর্মদেশনা শেষে নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর নির্বিশেষে চন্দন কাঠের সুবাসিত পানি ও ঝর্ণার পবিত্র বারিধারা নিয়ে বিহার প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় সমবেত প্রার্থনায় বিশ্বশান্তি ও মানবিক কল্যাণের জন্য দেশনা
করা হয়। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সূত্রপাঠ ও সূত্রশ্রবণের মধ্য দিয়ে দিনটির মাহাত্ম্য তুলে ধরা হয়।চিৎমরম উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা আগত পুণ্যার্থীদের মাঝে শরবত বিতরণ করে সেবার হাত বাড়িয়ে দেয়। প্রখর রোদে পুণ্যার্থীদের তৃষ্ণা মেটাতে শিক্ষার্থীদের এই আন্তরিক উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
রাঙ্গামাটি ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে আসা পুণ্যার্থীরা চিৎমরম বিহারের শান্ত ও মনোরম পরিবেশে উৎসব পালন করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। আগত এক পুণ্যার্থী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, “আমরা প্রার্থনা করেছি যেন পৃথিবী থেকে সকল যুদ্ধ-বিগ্রহ ও অশান্তি দূর হয় এবং সকল মানুষ যেন সম্প্রীতির সাথে বসবাস করতে পারে।”
কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই প্রশাসনের সতর্ক নজরদারিতে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী ধর্মীয় আচারসমূহ সম্পন্ন হয়েছে। ‘অহিংসা পরম ধর্ম’ এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের এই উৎসব পাহাড়ের বুকে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।

