যোগ করা সময়ের ঠিক ১১তম মিনিটে যখন রেফারির শেষ বাঁশিটি বাজল, তখন মাঠের ভেতরে ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের বাঁধভাঙা উল্লাস আর গ্যালারিতে কোটি সমর্থকের স্বস্তির নিঃশ্বাস! টানটান উত্তেজনা, স্নায়ুযুদ্ধ আর রোমাঞ্চে ঠাসা নকআউট পর্বের মহানাটকীয় ম্যাচে জাপানকে ২–১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো (১৬) নিশ্চিত করল হেক্সা মিশনের খোঁজে থাকা ব্রাজিল।
আজ দুপুরের গণছুটি নিয়ে যে ব্রাজিলিয়ানরা অফিস ফেলে টিভির সামনে বসেছিলেন, তাদের সেই ফুটবল আবেগের পুর্ণতা দিল সেলেসাওরা।
খেলার শুরু থেকেই লাতিন আমেরিকার নান্দনিক ফুটবল আর এশিয়ার পাওয়ার ফুটবলের এক অনবদ্য প্রদর্শনী দেখা যায় মাঠ জুড়ে। গ্রুপ পর্বে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে মোকাবিলা করে আসা ব্রাজিল আজ নকআউটের প্রথম ম্যাচেই জাপানি সামুরাইদের ডিফেন্সিভ দেয়ালের সামনে কঠিন পরীক্ষা দেয়।
প্রথমার্ধেই গোল করে ব্রাজিল লিড নিলেও, দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় জাপান। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল শোধ করে ম্যাচটিতে সমতা (১-১) ফেরায় তারা। এরপর নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত দুই দলই বেশ কিছু আক্রমণ চালালেও গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ হয়।
নির্ধারিত সময়ের পর ম্যাচের ভাগ্য যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল, তখনই শুরু হয় আসল নাটক। ইনজুরি টাইম বা যোগ করা সময়ে জাপানের ডি-বক্সে একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে ব্রাজিল। ঠিক এমনই এক পেনাল্টি বা ডি-বক্সের জটলা থেকে কাঙ্ক্ষিত ও জয়সূচক দ্বিতীয় গোলটি পেয়ে যায় ব্রাজিল।
তবে গোল পাওয়ার পরও স্বস্তিতে ছিল না সেলেসাওরা। গোল পরিশোধে মরিয়া জাপান শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ব্রাজিলের রক্ষণভাগে কাঁপন ধরিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের ১১তম মিনিটে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের ২-১ গোলের অবিশ্বাস্য ও কষ্টার্জিত জয়।
এই নাটকীয় জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের শেষ ৩২-এর বৈতরণী পার হয়ে গেল ব্রাজিল দল। কোয়ার্টার ফাইনাল বা কোয়ার্টারের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শেষ ১৬-র ম্যাচগুলোতে নামবে তারা। নিয়ম অনুযায়ী, পরবর্তী রাউন্ডের ম্যাচগুলো সাধারণত বিকেলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে আগামী ম্যাচগুলোর দিনও ব্রাজিলবাসীকে খেলা দেখার জন্য দুপুরের পর থেকেই অফিস-আদালত গুটিয়ে টিভির সামনে কিংবা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে হাজির হতে হবে। সামুরাই বধের এই মহাকাব্যিক জয় সেলেসাওদের হেক্সা জয়ের মিশনকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।

