গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকায় নিজ বাড়িতে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় পলাতক থাকা গৃহকর্তা ফোরকানের মরদেহ পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৯ মে) ভোরে কাপাসিয়ার রাউতকোনা (পূর্ব পাড়া) গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে শারমিন, তার তিন সন্তান ও ভাই রসুল মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তাদের তিন কন্যা সন্তান মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, নিহত শারমিনের সঙ্গে ফোরকানের দাম্পত্য সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই ভালো ছিল না। এর আগেও তিনি পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
নিহত শারমিনের ভাই শাহীন মোল্লা জানান, এক বছর আগে শারমিন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পরিবারের বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওই সময় ফোরকান স্ত্রীসহ সবাইকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাউতকোনায় ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস শুরু করেন ফোরকান।
তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন ফোরকান তার শ্যালক রসুল মিয়াকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর রাতে ফোনে জানান, তিনি সবাইকে হত্যা করেছেন।
পরিবারের দাবি, ফোরকান আগে একটি প্রাইভেটকার ভাড়া দেওয়ার কথা বললেও সেটি বাস্তবে দেখা যায়নি এবং তার আর্থিক অবস্থাও সন্দেহজনক ছিল।
ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন। পরে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পদ্মা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে পদ্মা সেতুর ওপর থেকে তার ব্যাগ ও কাপড় উদ্ধার করেছিল সিআইডি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান নিজেই স্বীকারোক্তিমূলক ফোনকল করেছিলেন এবং ঘটনার কথা জানান। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের বোতল ও কিছু কাগজপত্রও উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার তদন্তে পারিবারিক বিরোধ, মানসিক চাপ এবং পূর্বের অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

