জাবেদ শেখ, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি :
শরীয়তপুর সদর উপজেলায় নিখোঁজের ২৩ দিন পর একটি পুরাতন কবর থেকে মন্টু বেপারী (৬০) ওরফে মনু বেপারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের চর চটাং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মরদেহটি গামছা ও বিছানার চাদরে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
নিহত মন্টু বেপারী চর চটাং গ্রামের মৃত সোনাই বেপারীর ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে অন্যের কবরের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ থেকে মন্টু বেপারী নিখোঁজ ছিলেন। দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ না পেয়ে তার বোন মিনারা বেগম নিখোঁজের ২০ দিন পর পালং মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে পরিবারের অভিযোগ, শুরুতে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি।
সোমবার সকালে স্বজন ও স্থানীয়রা বাড়ির আশপাশে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে একটি পুরাতন কবরের পাশে নতুন মাটির চিহ্ন দেখতে পান। পরে মাটি খুঁড়ে সেখানে গামছা ও চাদরে মোড়ানো একটি মরদেহ দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের স্বজনরা জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর মন্টু বেপারী একই এলাকার এক নারীকে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে দাম্পত্য কলহের জেরে প্রায় ছয় মাস আগে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এ সময় ওই নারীর কাছে দেওয়া প্রায় ৭ লাখ টাকা ফেরত চেয়ে আদালতে মামলা করেন মন্টু বেপারী। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
নিহতের মেয়ে মিম আক্তারের অভিযোগ, টাকার বিরোধের জের ধরে তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে কবরের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই। নিহতের বোন মিনারা বেগমও এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে আংগারিয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুধাংশু জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

