বরিশাল অফিস :
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানার ভাষানচর ইউনিয়নের সরকারী একটি পুকুরে লিজ গ্রহিতার মাছ চাষিদের উপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরের দিকে ভাষানচরের গুদিঘাটা গ্রামে লিজ নেওয়া একটি সরকারি পুকুর থেকে মাছ ধরার সময় ঘটনাটি ঘটে। চাষিদের উপর সন্ত্রাসদের নিয়ে হামলা চালিয়ে মাছ কেরে নেয়ার চেস্টা করে প্রতিবেশী নাহিদ প্যাদা, মানিক হাওলাদার, রফিক ফকির এবং কালাম হাজী।
এক পর্যায়ে তাদের সাথে যোগ দিয়ে বিএনপির নাম ভাংগিয়ে হুমকি ধামকি প্রদান করে রাজ্জাক মাতব্বর ও সুজন মাতুব্বর, সুজন মাতুব্বর এবং বেল্লাল মাতুব্বর। এদের মধ্যে সুজন মাতুব্বর ইউনিয়ন ছাত্র দলের সভাপতি। তারা উপস্থিত হয়ে লিজ গ্রহিতার নিয়োগকৃত চাষিদের গালিগালাজ করেন এবং ধরা মাছ জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
বাধা দিলে প্রথমে এলাকার মাদকসেবি হিসেবে পরিচিত নাহিদ প্যাদা ফাহাদ হাওলাদার নামের চাষিকে হামলা করে রক্তাক্ত করে। এবং তার সাথে থাকা অন্য হামলা কারিরা চাষি জান্নাত সিকদার, সোলেমান হাওলাদার এবং স্বপন হাওলাদারকেও জীবন নাষের হুমকি প্রদান করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা দা ও লাঠিসোটা প্রদর্শন করে তাকে খুন জখমের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত ফরহাদ হাওলাদার প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি এই পুকুরটি বিগত সরকারের সময়ে সরকারি রাজস্ব ভাকি দিয়ে বিনা লিজে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম চুন্নু উপরোক্ত হামলাকারীদের সাথে নিয়ে জোর দখল করে ভোগ করে আসছিলো। পট পরিবর্তনের পর যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লিজ নিয়ে গ্রহিতা এলাকার বেকার যুবকদের দিয়ে মাছ চাষ করছিলেন। উল্লেখ্য যে পুকুরে থাকা পূর্বের মাছ এলাকা বাসির উপস্থিতিতে চেয়ারম্যানের কেয়ারটেকার অশ্রু ধরে নিয়েছেন।
অদ্য লিজ গ্রহিতার চাষিদের উপর হামলা ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে ভুক্তভোগী কাজিরহাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান চলছে।
এ বিষয়ে বরিশাল কাজিরহাট থানার ওসি (তদন্ত) দিপঙ্কর রায় বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি দীপেন জমাদ্দারসহ স্থানীয় বিএনই নেতারা জানিয়েছেন বিএনপির নাম ব্যাবহারকারী রাজ্জাক মাতুব্বর দলের কোন পদ পদবীতে নেই, ছাত্র দলের ইউনিয়ন সভাপতি সুজন মাত্তবর কেন সেখানে গেলেন এবং ঘটনাস্থলে হামলাকারীদের সাথে ছিলেন তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে জেলা ও উপজেলা ছাত্র দল। উল্লেখ সুজন এর আগেও সৃং্খলা ভংগের কারনে একধিকবার বহিষ্কার হয়েছিলেন।

