তানভীর তুহিন, স্টাফ রিপোর্টার:
এক সময়ের খরস্রোতা ভূবনেশ্বর নদ দখল, দূষণ ও দীর্ঘদিনের অবহেলায় প্রায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছিল। ধীরে ধীরে নদটি পরিণত হয়েছিল মরা খালে। তবে সরকারের নদ-নদী পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন কার্যক্রমের আওতায় নতুন করে খনন কাজ শুরু হওয়ায় আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এই নদ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক বছর আগেও নদটির বিভিন্ন অংশ ভরাট হয়ে যায়। কোথাও দখলদাররা স্থাপনা নির্মাণ করে, আবার কোথাও আবর্জনা ও পলি জমে পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে বর্ষা মৌসুমেও নদে পর্যাপ্ত পানি থাকত না। এতে নদপাড়ের হাজার হাজার একর কৃষিজমিতে সেচ সংকট দেখা দেয় এবং কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
বর্তমানে নদটির কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন অংশে প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকায় পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। খননের ফলে নদে আবারও পানি প্রবাহ সৃষ্টি হতে শুরু করেছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তাদের আশা, নদটি পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হলে কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বাড়বে, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্যও পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, ভূবনেশ্বর নদ পুনঃখননের ফলে এলাকার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘদিন ধরে অনাবাদি পড়ে থাকা অনেক জমি আবার চাষাবাদের আওতায় আসতে পারে। একই সঙ্গে নদকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদও সমৃদ্ধ হবে বলে তারা মনে করছেন।
সদরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুনাহার বলেন, “ভূবনেশ্বর নদ পুনঃখনন প্রকল্পটি সরকারের নদ-নদী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন অংশে প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকায় খনন কাজ চলমান রয়েছে। কাজ শেষ হলে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরে আসবে এবং কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশ খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
তিনি আরও বলেন, “নদটি দখল ও দূষণ রোধে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। পুনঃখননের সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভূবনেশ্বর নদ পুনঃখননের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, ধারাবাহিক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে নদটি তার হারানো ঐতিহ্য ও নাব্যতা ফিরে পাবে এবং এলাকার অর্থনীতি ও পরিবেশে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে।

