জামালপুর জেলা প্রতিনিধি :
পাগল, অপরিচিত ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে প্রায়ই বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছে জামালপুরের বকশীগঞ্জ ও দেওয়াগঞ্জ সীমান্তের বিজিবি। একই পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
বুধবার(১০ জুন) থেকে শনিবার(১৩ জুন) পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ জন বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে নিয়ে সীমান্তে ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন সীমান্ত এলাকার কাছাকাছি নানা ঘটনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ সীমান্তে বুধবার(১০ জুন) পর্যাক্রমে তিন জন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী লোককে নিয়ে সীমান্তে বিজিবি, বিএসএফ ও সাধারণ জনতার মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। দিন ব্যাপি সীমান্তে ছিলো চরম উত্তেজনা। দুই দফায় বিজিবি ও বিএসএফ এর মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়েছে। বাক বিতন্ডাও ছিলো তীব্র। প্রশাসন ছাড়াও সীমান্তে প্রায় ৫/৬ হাজার লোকের সমাগম ঘটে। পরে যাছাই বাছাই করে প্রমানিত হয় তারা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। এর পর আটক ব্যাক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
শুক্রবার(১২ জুন) দুপুরে বকশীগঞ্জ সীমান্তের ধানুয়া কামালপুরে একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফ এর মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে বিজিবি ও বিএসএফ এর মধ্যে দীর্ঘ সময় আলোচনার পর জানা যায় সে পুশইন বা পুশ ব্যাকের শিকার না। সে পাগল। দীর্ঘ দিন ধরে বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে বসবাস করে আসছে।
শনিবার(১৩ জুন) সকালে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ডাংধরা ইউনয়নের কাউনিয়ারচর বাজারে ভারতীয় সন্দেহে ২ জনকে আটক করে স্থানীয় জনতা। আটকের পরই শুরু হয় উত্তেজনা। প্রশাসনের লোকজন তাদের ঠিকানা যাছাই বাছাই করে জানতে পারে তাদের একজনের বাড়ী চুয়াডাঙ্গা। অন্য জনের বাড়ী ফেনি। তারা দুই জনই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।
জামালপুর ৩৫ বিজিবির কোম্পানি কমান্ডার লে: কর্নেল হাসানুর রহমান হাসান বলেন, প্রতিটি উপজেলায় সমাজ সেবা অফিস আছে। সমাজ সেবা অফিস যদি তাদের সনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় তা হলে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা সহজ হবে। তিনি আরও বলেন, জনসাধারণকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

