ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী, পরিবহনশ্রমিক ও সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বাণিজ্য কমে যাওয়ায় একদিকে ব্যবসায়িক আয় হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ব্যবসায়ীরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য আগের গতিতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের নাগরিকদের যাতায়াতের পাশাপাশি নিয়মিত পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। এই স্থলবন্দর দিয়ে সাধারণত বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের রপ্তানির পরিমাণই বেশি।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০টি পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ১৫ থেকে ২০টিতে। ফলে ব্যবসার পাশাপাশি ট্রাকচালক, শ্রমিক, বহনকর্মী এবং এ খাতের সঙ্গে জড়িত অনেক মানুষের আয় কমে গেছে।
রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী ধীরাজ অধিকারীর মতে, বাংলাদেশের বাজারে কিছু পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি সীমান্তের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও বাণিজ্য কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত সীমান্ত পরীক্ষাকেন্দ্র (ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট) নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এ ধরনের আধুনিক অবকাঠামো চালু হলে পণ্য পরীক্ষা, ছাড়পত্র ও পরিবহন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ হবে। এতে সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রমও গতিশীল হবে।
ব্যবসায়ীদের মতে, বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে সীমান্ত অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ জরুরি। তারা এ বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ কামনা করেছেন।
তাদের আশা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কার্যকর নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য আবারও আগের গতি ফিরে পাবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান এবং সরকারি রাজস্ব আদায়—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

