বাংলাদেশ ব্যাংক মন্দ ঋণ অবলোপনের শর্ত আরও শিথিল করেছে। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে এখন ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের মধ্যে মন্দ ও ক্ষতিজনক হিসেবে শ্রেণীকৃত ঋণ আংশিকভাবে অবলোপন বা রাইট-অফ করতে পারবে। এর আগে এই সুযোগ ছিল না।
গত বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই শিথিলকৃত নির্দেশনা জারি করেছে। এর আগে, গত মাসে মাত্র ১০ দিনের নোটিশে ঋণ অবলোপনের সুযোগ প্রদান করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ধরনের ছাড়ের মাধ্যমে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ কমানোর প্রচেষ্টা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনে কোনো ঋণ আংশিকভাবে অবলোপন না করার নির্দেশনা ছিল। ফলে কিছু ক্ষেত্রে ঋণের আংশিক আদায়ের সম্ভাবনা থাকলেও পূর্বে তা সম্ভব হয়নি। এছাড়া, পুরো ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত প্রভিশন বা সংস্থান না থাকলে অবলোপন করা সম্ভব হত না। ফলে মন্দ ও ক্ষতিজনক ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশ অনাদায়ী হলেও স্থিতিপত্রে দৃশ্যমান থাকায় ঋণের আকার বৃদ্ধি পেত। এই কারণেই আংশিক অবলোপনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, আংশিক অবলোপন একটি প্রচলিত পদ্ধতি, যা পার্শ্ববর্তী ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ অনেক উন্নত দেশে ব্যবহার করা হয়। আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা অনুসরণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মন্দ ও ক্ষতিজনক ঋণ যেগুলোর ভবিষ্যতে আদায়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ, সেগুলোই আংশিক অবলোপনের আওতায় আসবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক চাইলে যথাযথ জামানত মূল্যায়ন করতে পারবে। আংশিক অবলোপনের ক্ষেত্রে প্রথমে মূল ঋণের ওপর আরোপিত সুদের অংশ অবলোপন করতে হবে; অনারোপিত সুদ আলাদাভাবে হিসাব করতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ (জামানত ব্যতীত) প্রথমে অবলোপন করা পাওনার বিপরীতে সমন্বয় করতে হবে। যদি আদায় করা অর্থ মোট অবলোপিত ঋণের থেকে বেশি হয়, তবে উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে স্থিতিপত্রে প্রদর্শিত বকেয়া ঋণ সমন্বয় করা যাবে। গ্রাহকের মোট পাওনা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বকেয়া ঋণ, অনারোপিত সুদ এবং অনাদায় অবলোপনকৃত অংশ– এই তিনটি বিবেচনায় নিতে হবে। আংশিক অবলোপনের পর স্থিতিপত্রে দৃশ্যমান বকেয়া অংশের জন্য পুনঃতপশিল বা এক্সিট সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে।

