আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
একজন শিক্ষার্থী যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন, সাধারণত তার চারপাশের চেনা জগৎটা গড়ে ওঠে বই, শিক্ষক আর সহপাঠীদের নিয়ে। কিন্তু তুরস্কের সাকারিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বেরু মেরভে কুলের শিক্ষাজীবনটা আর দশটা শিক্ষার্থীর মতো ছিল না। তবে তার পাশে ছিলেন এমন একজন—যার কারণে অসম্ভবও সম্ভব হয়েছে। তিনি আর কেউ নন, তার মা হাভভা কুল।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় আইন পড়ার মতো কঠিন পথটা বেরুর জন্য মোটেও সহজ ছিল না। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় ব্রেইল বই ও অডিও শিক্ষাসামগ্রীর চরম সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিদিনের পড়াশোনাই ছিল তার জন্য এক একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু মেয়ের চোখের আলো না থাকলেও, তার স্বপ্নের আলো নিভে যেতে দিতে চাননি মা।
মেয়ের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হাভভা কুল এক অসাধারণ ও অবিশ্বাস্য সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘ চার বছর ধরে তিনি মেয়ের সঙ্গে প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্লাসে যান। সহপাঠীদের মতো মায়ের আসনে বসে লেকচার শোনেন, পরম যত্নে নোট নেন। এরপর বাসায় ফিরে আইনের সেই জটিল ও কঠিন বই এবং ক্লাসের লেকচারগুলো মেয়েকে পড়ে শোনাতেন। চারটা বছর ধরে এভাবেই মেয়ের ‘চোখ’ হয়ে পাশে ছিলেন এই জননী।
মায়ের সেই অক্লান্ত পরিশ্রম আর নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। ২০১৮ সালে বেরু মেরভে কুল সফলভাবে আইন বিভাগ থেকে স্নাতক (এলএলবি) সম্পন্ন করেন। তবে সমাবর্তনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে মঞ্চে শুধু মেয়ে একাই পুরস্কৃত হননি; বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্মানিত করে তার মাকেও।
মেয়ের শিক্ষাজীবনে অনন্য অবদান ও অতুলনীয় আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে সাকারিয়া বিশ্ববিদ্যালয় মা হাভভা কুলকেও সম্মানসূচক আইন ডিগ্রি প্রদান করে। যে মা চার বছর ধরে প্রতিটি ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন, প্রতিটি বইয়ের শব্দ মেয়ের চোখ হয়ে পড়ে শুনিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত তিনিও হয়ে ওঠেন সেই গৌরবময় যাত্রার অংশীদার।
এই অনন্য ভালোবাসার গল্পটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষকে আবেগাপ্লুত করেছে। এটি শুধু একজন দৃষ্টিজয়ী শিক্ষার্থীর সাফল্যের গল্প নয়; এটি প্রমাণ করে, পৃথিবীতে সব বাধা হেরে যায় মায়ের ভালোবাসার কাছে। মায়ের নিটোল ভালোবাসাই সন্তানের স্বপ্ন ছোঁয়ার সবচেয়ে বড় আলো।

