বাংলাদেশের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে (আইসিইউ) দ্রুত এমন সব জীবাণুর বিস্তার ঘটছে, যেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো অ্যান্টিবায়োটিকই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জাতীয় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) সার্ভিলেন্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইসিইউ থেকে সংগৃহীত নমুনার ৪১ শতাংশই সন্দেহভাজন প্যান-ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট (পিডিআর) হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যার অর্থ পরীক্ষিত কোনো অ্যান্টিবায়োটিকই এই জীবাণুগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর নয়।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) আইইডিসিআর অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে সংস্থার চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার অধ্যাপক ডা. জাকির হোসেন হাবিব গবেষণার এ ফলাফল তুলে ধরেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সাধারণ সংক্রমণও যদি চিকিৎসায় সাড়া না দেয়, তাহলে দেশ ‘পোস্ট-অ্যান্টিবায়োটিক যুগের’ ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সামগ্রিকভাবে হাসপাতালে বহু-ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণুর হার ৪৬ শতাংশ হলেও, আইসিইউ’র মতো স্পর্শকাতর স্থানে এই হার বেড়ে ৮৯ শতাংশে পৌঁছেছে।
প্রধান জীবাণু: ৯৬ হাজারের বেশি রোগীর নমুনা বিশ্লেষণে ই-কোলি (৩৫%) ও ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়া (১৯.২%) সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে।
বিপজ্জনক বৃদ্ধি: ক্লেবসিয়েলার ক্ষেত্রে সেফট্রিয়াক্সোন প্রতিরোধ গত তিন বছরে (২০২২–২৫) ৪০.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫২.২ শতাংশে পৌঁছেছে এবং মেরোপেনেম প্রতিরোধ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
পিডিআর-এর উৎস: প্যান-ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট (পিডিআর) নমুনার মধ্যে ২৭ শতাংশই ছিল অ্যাসিনেটোব্যাক্টরের মতো জীবাণু, যার মেরোপেনেম প্রতিরোধ ক্ষমতা ৪৬.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে হাসপাতালে ‘ওয়াচ গ্রুপ’ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। চলতি বছরে এর ব্যবহারের হার ১০৯ শতাংশ, যা অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। এছাড়া রক্তের নমুনায় এমআরএসএ–র হার ৫৩.৯ শতাংশ এবং ইএসবিএল উৎপাদক ই-কোলির হার ৮৪.৩ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক বেশি।
বিশেষজ্ঞরা এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার, প্রেসক্রিপশন গাইডলাইন না মানা, দুর্বল সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নীতি এবং ল্যাব-সামর্থ্যের ঘাটতিকে দায়ী করেছেন।
তারা সতর্ক করেছেন যে, এখনই যদি অ্যান্টিবায়োটিক স্টুয়ার্ডশিপ জোরদার করা না হয়, তবে সাধারণ সংক্রমণেও জীবনহানি বাড়বে। সেমিনারে উপস্থিত নীতি-নির্ধারকরা জাতীয় পর্যায়ে দ্রুত নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

