মুহাম্মদ মহসিন আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় নিম্নমানের, দুর্গন্ধযুক্ত ও পচা চাল বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এতে উপকারভোগী দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত চালের মান যাচাই করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী জমিলা খাতুনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভিজিএফ ও ভিডব্লিউবি কর্মসূচির জন্য বিভিন্ন ইউনিয়নে সরবরাহ করা চালের বস্তা খুলতেই তীব্র দুর্গন্ধ, লালচে রঙ, পোকায় আক্রান্ত এবং জমাট বাঁধা চাল পাওয়া যায়। অনেকেই অভিযোগ করছেন, এসব চাল দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত ছিল এবং তা খাদ্য হিসেবে সম্পূর্ণ অনুপযোগী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ইতোমধ্যে এসব চাল বিতরণ করা হয়েছে, আবার কিছু এলাকায় বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফলে যেসব এলাকায় এখনো চাল বিতরণ বাকি রয়েছে, সেখানকার সুবিধাভোগীদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, চালের মান এতটাই খারাপ যে তা রান্না বা খাওয়ার উপযোগী নয়। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এমন পচা চাল দেওয়ার চেয়ে না দেওয়াই ভালো ছিল। এতে উপকারের বদলে মানুষ অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।”
অভিযোগ রয়েছে, দুর্গন্ধ ও নষ্ট চাল দেখে অনেকেই তা গ্রহণ না করেই ফিরে গেছেন। কেউ কেউ চাল পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এ বিষয়ে চম্পকনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, “আমাদের ইউনিয়নে যে চাল এসেছে, তা মোটেও খাওয়ার উপযোগী নয়। প্রতিটি বস্তায় পোকা ও নষ্ট চাল রয়েছে। এমন চাল মানুষের জন্য ক্ষতিকর।”
বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন জানান, “এই মাসে ভিডব্লিউবি কর্মসূচির জন্য যে চাল এসেছে, তার মান ভালো নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।”
বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সকিনা আক্তার বলেন, “বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত করেছি এবং সতর্ক করা হয়েছে। যেসব ইউনিয়নে এখনো চাল বিতরণ হয়নি, তারা চাইলে খাদ্যগুদামে গিয়ে চাল যাচাই করে পরিবর্তন করতে পারবেন। আগে থেকেই চাল পরীক্ষা করার নিয়ম রয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই চাল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।

