লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, গ্রাহক হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ, ট্রান্সফরমার ও লোড বৃদ্ধি নিয়ে মাসের পর মাস ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নতুন সংযোগের আবেদন করলেই নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হচ্ছে। কখনো তারের সংকট, কখনো ট্রান্সফরমার বরাদ্দ নেই, আবার কখনো অনলাইন আবেদন বা জমির কাগজে ত্রুটির কথা বলা হচ্ছে। অথচ প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বিশেষ সুবিধাভোগীরা দ্রুত সংযোগ ও অতিরিক্ত লোড সুবিধা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আশারকোটা গ্রামের সাদ্দাম হোসেন, পৌরসভার কর্মচারী পিন্টু, আরিছপুর গ্রামের মাকসুদুর রহমান, আগুনখীল গ্রামের মোস্তাক আহম্মেদ, রতনপুর গ্রামের মাহাবুবুল রহমানসহ অনেক আবেদনকারী দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এদিকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের ১২টি স্থাপনায় সংযোগ দিতেও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া অ্যাপোলো হাসপাতাল, কর্ণফুলী সিটি কমপ্লেক্স ও কয়েকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সংযোগ বছরের পর বছর ঝুলে আছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, গোপন সমঝোতার মাধ্যমে কিছু এলাকায় ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হলেও এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধের কারণেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ান ও তালিকাভুক্ত কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, জোনাল অফিসের ওয়ারিং ইন্সপেক্টর শিমুল বড়ুয়া প্রতি মিটারে ঘুষ ছাড়া অনুমোদন দেন না। বড় কাজের ক্ষেত্রে ট্রান্সফরমার ও মিটার পেতেও অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয় বলে তাদের অভিযোগ।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ওয়ারিং ইন্সপেক্টর শিমুল বড়ুয়া। তিনি বলেন, “গ্রাহকরা অনলাইনে আবেদন করলে সিরিয়াল অনুযায়ী সংযোগ পাচ্ছেন।”
রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম শাহিন রেজা ফরাজী বলেন, “নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনো বরাদ্দ আসেনি। অনেক গ্রাহক শর্ত পূরণ না করায় সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। বিধি অনুযায়ী আবেদন করলে সবাই লোড বৃদ্ধির সুবিধা পেতে পারেন।

