Bangla FM
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • কলাম
  • ভিডিও
  • অর্থনীতি
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • প্রবাস
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • মতামত
  • লাইফস্টাইল
No Result
View All Result
Bangla FM

চায়ের কাপে চুমুক, আড়ালে ইয়াবা—নীরব প্রশাসনে বেপরোয়া সিন্ডিকেট

Taslima TanishabyTaslima Tanisha
৯:২৬ pm ১৪, ডিসেম্বর ২০২৫
in Semi Lead News, সারাদেশ
A A
0

শাহরিয়ার কবির,পাইকগাছা (খুলনা)

একসময় শান্ত, নিরিবিলি ও কৃষিনির্ভর জনপদ হিসেবে পরিচিত খুলনার পাইকগাছা উপজেলা আজ ভয়ংকর এক মাদক আগ্রাসনের মুখে। ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ নানা ধরনের নিষিদ্ধ মাদক এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়—হাত বাড়ালেই মিলছে। অলিগলি, বাজার, বাসস্ট্যান্ড, ব্রিজের নিচ, নদীপাড় এমনকি আদালত, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশেও চলছে মাদক কেনাবেচা ও সেবন। এতে করে কিশোর-তরুণদের একটি বড় অংশ মাদকের জালে জড়িয়ে পড়ছে, যা পুরো সমাজকে ঠেলে দিচ্ছে অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে।

পৌর সদরে ‘ওপেন সিক্রেট’ মাদক বাণিজ্য—স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার জিরো পয়েন্ট, বাসস্ট্যান্ড, রিস্কির মোড়(পাইকগাছা সরকারি কলেজের পিছনে) পুরাতন পরিবহন কাউন্টার, কোর্ট প্রাঙ্গণ, মাছ কাঁটা, হাসপাতাল এলাকা, শিববাটি ব্রিজের নিচ, ওয়াপদা পাড়া ও বালির মাঠ—এসব জায়গা এখন কার্যত মাদক কারবারের পরিচিত পয়েন্ট। দিনের আলোতেই লেনদেন হয়, আর সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, চায়ের দোকানগুলো মাদক বেচাকেনার নিরাপদ আড্ডায় পরিণত হয়েছে। “চা খেতে বসে হাত বাড়ালেই ইয়াবা বা গাঁজা পাওয়া যায়”—এ কথা এখন অনেকটাই ‘ওপেন সিক্রেট’। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় বখাটে ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ে।

ইউনিয়নজুড়েও ছড়িয়ে পড়েছে মাদক—শুধু পৌর সদর নয়, গদাইপুর, নতুন বাজার, কপিলমুনি, ভিলেজ পাইকগাছা, বাঁকা বাজার, গড়ইখালী, কাটিপাড়া, চাঁদখালি, কাটাখালী ও হরিঢালীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নেও মাদক বাণিজ্যের বিস্তার ঘটেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় নিয়মিত নেশাসেবন চলে, যা দেখে এলাকার সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকে।

একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দোকানি বলেন,“বিকাল হইলেই ব্রিজের নিচে, মাঠে আর নির্জন রাস্তায় নেশা শুরু হয়। কেউ কিছু বললে ঝামেলা, তাই সবাই চুপ থাকে।”

তথ্য অনুযায়ী, চাঁদখালি–বড়দল (সাতক্ষীরা), বাঁকা সীমান্তবর্তী আশাশুনি (সাতক্ষীরা), দাকোপ–বৈটাঘাটা হয়ে সোনাদানা, পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) হয়ে কাটিপাড়া, এবং সাতক্ষীরা–কেশবপুর–খুলনা রুট হয়ে কপিলমুনি—এই একাধিক পথ ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এ উপজেলায় মাদক সরবরাহ করছে। এসব রুট মূলত নজরদারি দুর্বল, যোগাযোগ সুবিধাজনক এবং দ্রুত পণ্য সরানোর জন্য উপযোগী হওয়ায় সিন্ডিকেটের কাছে নিরাপদ করিডর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পাইকগাছা পৌর সদর, সোনাদানা, বাঁকা, কাটিপাড়া, নতুন বাজার, গদাইপুর ও কপিলমুনি বাজার—এই এলাকাগুলোই বর্তমানে মাদক বেচাকেনার প্রধান হটস্পট। এখান থেকেই খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে গ্রাম-গঞ্জে মাদক ছড়িয়ে পড়ছে, যা তরুণ সমাজকে দ্রুত ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের তৎপরতা এতটাই সংগঠিত যে মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের আগাম খবরও তারা পেয়ে যায়, ফলে বড় চালান ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

কিশোর-তরুণরাই প্রধান টার্গেট—সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে কিশোর ও যুবসমাজ। বেকারত্ব, পারিবারিক নজরদারির অভাব ও সহজলভ্যতাই তাদের মাদকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—এলাকায় ইয়াবা পাওয়া খুব সহজ। সন্তান নিয়ে আমরা দিশেহারা।”

চিকিৎসকদের মতে, মাদকাসক্তদের মধ্যে মানসিক অবসাদ, অপরাধপ্রবণতা, পারিবারিক সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতা দ্রুত বাড়ছে। ছোটখাটো চুরি, ছিনতাই ও সহিংস ঘটনার পেছনেও মাদকের প্রভাব রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

• সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় কারবার

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকা ও নদীপথ ব্যবহার করে মাদক পাইকগাছায় প্রবেশ করছে। পরে একটি সংগঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তা খুচরা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের কিছু লোক জড়িত থাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

একজন সচেতন নাগরিক বলেন,
“প্রতিবাদ করলে হুমকি আসে। সামাজিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। তাই সবাই নীরব।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রশ্নের মুখে—পাইকগাছায় মাদক আগ্রাসনের ঘটনায় এখন সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে দু–একজন খুচরা বিক্রেতা বা বাহককে আটক করা হলেও মূল কারবারি ও সিন্ডিকেটের গডফাদাররা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে এসব অভিযান অনেকের কাছে লোক দেখানো বলেই মনে হচ্ছে।

আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—কখনো কখনো মাদক সংশ্লিষ্ট দু–একজনকে আটক করা হলে প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা-কর্মী প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাদের ছাড়িয়ে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, পৌর সদর, বাঁকা, কাটিপাড়া, নতুন বাজার, গদাইপুর ও কপিলমুনি বাজারের মতো একাধিক পয়েন্টে যদি প্রকাশ্যেই মাদক কেনাবেচা চলে, তাহলে তা প্রশাসনের চোখ এড়ায় কীভাবে? সংশ্লিষ্ট থানা, গোয়েন্দা সংস্থা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিয়মিত নজরদারি থাকা সত্ত্বেও বড় সিন্ডিকেট অক্ষত থাকা কি কেবল দায়িত্বহীনতা, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো যোগসাজশ—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, খণ্ড খণ্ড অভিযানের বদলে রুটভিত্তিক বিশেষ অভিযান, রাজনৈতিক চাপমুক্ত তদন্ত এবং সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা না গেলে পাইকগাছাকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব নয়।

এক জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,—“মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। শুধু পুলিশের পক্ষে এটি নির্মূল করা সম্ভব নয়। সকালের এগিয়ে আসা উচিত। তবে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না।”

পাইকগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, “মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই পাইকগাছা থেকে মাদক নির্মূলে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসবে। এখন থেকে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, যাতে মাদক ব্যবসায়ীরা কেউই রেহাই না পায়।”

রাজনৈতিক চাপের কারণে মাদক মামলার আসামি ছাড় পাওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “পাইকগাছায় এ ধরনের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। কেউ যদি মাদক সংশ্লিষ্ট আসামির পক্ষে সুপারিশ করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধেও প্রচলিত কঠোর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। স্কুল-কলেজভিত্তিক কাউন্সেলিং, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনতে না পারলে সব উদ্যোগই ব্যর্থ হবে।

সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) মো. আমির হামজা এ প্রতিবেদককে বলেন, —“পাইকগাছা উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান আমরা নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করছি। প্রতিদিনই পুলিশের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা ব্যক্তিকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এককভাবে নয়, প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত জরুরি।”

পাইকগাছার মানুষ আজ নিরাপদ সমাজ চায়—যেখানে সন্তানরা মাদক নয়, স্বপ্নের পথে এগোবে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, চায়ের কাপে চুমুকের আড়ালে চলা এই মরণনেশা কবে থামবে? নাকি নীরবতার সুযোগে আরও গভীরে শিকড় গাঁড়বে ভয়ংকর এই মাদক সাম্রাজ্য?

ShareTweetPin

সর্বশেষ সংবাদ

  • অগাস্টিনা চাকমার বক্তব্যকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ আখ্যা, বান্দরবানে সম্প্রীতি জোটের তীব্র নিন্দা
  • যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে আবার যুদ্ধ আশঙ্কা: ইরানের সশস্ত্র বাহিনী
  • জামালপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত ব্যাক্তির পরিচয় সনাক্ত
  • রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হলো শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী হরিপূজা
  • বান্দরবানে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান মে দিবস

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুর ইসলাম (রাশেদ মানিক)
নির্বাহী সম্পাদক: মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ

বাংলা এফ এম , বাসা-১৬৪/১, রাস্তা-৩, মোহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ

ফোন:  +৮৮ ০১৯১৩-৪০৯৬১৬
ইমেইল: banglafm@bangla.fm

  • Disclaimer
  • Privacy
  • Advertisement
  • Contact us

© ২০২৬ বাংলা এফ এম

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • প্রবাস
  • ভিডিও
  • কলাম
  • অর্থনীতি
  • লাইফস্টাইল
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • চাকুরি
  • অপরাধ
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • ফটোগ্যালারি
  • ফিচার
  • মতামত
  • শিল্প-সাহিত্য
  • সম্পাদকীয়

© ২০২৬ বাংলা এফ এম