মোঃ সায়েদুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে এক পুলিশ সদস্যের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে টানা তিন দিন ধরে অবস্থান করছেন এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার ধুসর কালীবাড়ি গ্রামের মৃত সাহাজ উদ্দিনের ছেলে মো. হাসান আলীর বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন ওই ছাত্রী।
রবিবার (৯ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দেখা যায়, হাসানের বাড়ির সামনে উৎসুক জনতার ভিড়। তবে বাড়ির লোকজন পলাতক থাকায় কেউ তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী ছাত্রী মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বিএ (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের অধ্যায়ন করছে। তিনি জানান, ফেসবুকে বন্ধুত্বের সূত্র ধরে দীর্ঘ চার বছর ধরে পুলিশ সদস্য হাসান আলীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ঐ পুলিশ সদস্য হাসান তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
তিনি আরও বলেন, বিয়ের কথা বললে হাসানের মা রাজি না হওয়া আমাকে তার বাড়িতে গিয়ে ওঠার পরামর্শ দেন। উপায় না দেখে গত ২৮ ডিসেম্বর আমি তার বাড়িতে আসি। পরে তার মা ও পরিবারের লোকজন জানান, হাসান ছুটিতে এলে ৪০ দিন পর সামাজিকভাবে বিয়ে দেওয়া হবে। আমি ফিরে যাই। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও বিয়ের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এরপর গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তিনি ফের হাসানের বাড়িতে আসেন। কিন্তু হাসানের মা ও বোন বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। বর্তমানে বাড়ির সব সদস্যই পলাতক বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, হাসান নাটোরে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। তার কনস্টেবল নম্বর ৯৬৬ বিপি-৯৮১৮২১০৪০২। কিন্তু এখন তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. খবির উদ্দিন বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে একই ছাত্রী বিয়ের দাবিতে হাসানের বাড়িতে আবস্থান নিলে ৪০ দিনের মধ্যে বিয়ে দেওয়ার লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও বিয়ের কোন উদ্যোগ না নেয়ায় মেয়েটি আবারও পুলিশের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নিয়েছে।
শিবালয় থানা অফিসার ইনচার্জ এ আর এ আল-মামুন জানান, এ ঘটনায় এখনো কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।