ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আন্দোলনবিরোধী অবস্থান নেওয়া এবং আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অভিযোগ থাকলেও এখনো কার্যকর বিচার হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা স্থায়ী না হওয়ায় সংগঠনের সদস্যদের একটি অংশ নীরবে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।
ক্যাম্পাস-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকারবিরোধী এক দফা আন্দোলনে রূপ নেওয়ার পর আন্দোলন ঠেকাতে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শাপলা ফোরাম ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের কয়েকজন নেতা-কর্মকর্তা একাধিক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে আন্দোলন মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২ থেকে ৪ আগস্টের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকের পর আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি প্রতিহত, ছাত্র-শিক্ষকদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশকারী শিক্ষকদের তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন মহলে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ৪ আগস্ট শাপলা ফোরামের ব্যানারে একটি মিছিল থেকে আন্দোলনবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং আন্দোলন প্রতিরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সময়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রস্তুতির অভিযোগও উঠে আসে, যদিও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।
জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্দোলনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৯ শিক্ষক, ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ৩৩ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে পরে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, শাপলা ফোরামের কিছু সদস্য বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করছেন এবং মামলা পরিচালনা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে তৎপর রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক এস এম সুইট অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে আন্দোলনের পক্ষের শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি বিবেচনা করবে।
তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক, শাপলা ফোরাম কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

