পৃথিবীর বহু দেশ ঘুরেছি, নামিদামি হোটেল-রেস্টুরেন্টের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ হয়েছে। দুবাইয়ের চোখধাঁধানো শহরে দিল্লির দরবার কিংবা পাকিস্তানের বিখ্যাত সব রেস্টুরেন্টের সুস্বাদু খাবারের সঙ্গে আমরা কমবেশি পরিচিত। আমাদের দেশেই বা কম কী!
ঢাকা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখন বিশ্বমানের বহু রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে, যেখানে সুস্বাদু চিকেন টিক্কার স্বাদ নেওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে।
কিন্তু সত্যি বলতে কী—বিলাতের (যুক্তরাজ্যের) রেস্টুরেন্টগুলোতে যে ধরনের চিকেন টিক্কা পাওয়া যায়, তার স্বাদ এবং সুবাস এককথায় তুলনাহীন।
পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের রেস্টুরেন্টে আমি এই জাদুকরী স্বাদ পাইনি। আর এর পেছনে রয়েছে আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট মালিক ও পেশাদার শেফদের বছরের পর বছর ধরে করা নিখাদ পরিশ্রম, সততা এবং রান্নার প্রতি তাদের নিখুঁত শিল্পসত্তা।
আজ থেকে বহু বছর আগে আমাদের দেশের অগ্রজপ্রতিম বাঙালিরা যখন প্রথম ইংল্যান্ডের মাটিতে পা রেখে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করেছিলেন, তখন পারিপার্শ্বিক বাস্তবতার কারণে সেগুলোকে বাধ্য হয়ে ‘ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট’ নামেই পরিচিত করতে হয়েছিল। কিন্তু নাম যাই হোক না কেন, রান্নাঘর থেকে খাবারের টেবিলে যে জাদু তারা ছড়িয়েছিলেন, তার মূল কারিগর ছিলেন আমাদের এই পরিশ্রমী বাঙালিরাই।
বিলাতের চিকেন টিক্কার সেই বিশেষ স্বাদ এবং নরম টেক্সচার অন্য কোথাও না পাওয়ার মূল কারণ হলো আমাদের বাংলাদেশি শেফদের পেশাদারিত্ব। তারা কেবল মশলা দিয়েই রান্না শেষ করেন না; মাংসের নির্বাচন থেকে শুরু করে ম্যারিনেশনের নিখুঁত সময়, সঠিক তাপমাত্রার তন্দুর পরিচালনা এবং ব্রিটিশ কাস্টমারদের রুচির সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী স্বাদের মেলবন্ধন ঘটাতে তারা নিজেদের নিংড়ে দিয়েছেন। এই পেশাদারিত্বই আজ ব্রিটিশ কারি ইন্ডাস্ট্রির মূল ভিত্তি।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে একটি দারুণ ভাবনা মনে উঁকি দেয়। আমাদের দেশের যে সমস্ত কৃতি শেফ ও উদ্যোক্তারা বিলাতের মাটিতে বছরের পর বছর ধরে নিজেদের মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন, তারা যদি সেই একই মান এবং প্রফেশনালিজম নিয়ে আমাদের দেশের বড় বড় শহরগুলোতে—বিশেষ করে ঢাকা ও সিলেটে—এমন একটি আন্তর্জাতিক মানের চিকেন টিক্কা বা কারি হাউজ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, তবে তা এক বিরাট বিপ্লব ঘটাতে পারে।
আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মের ফুডিস এবং বিদেশি পর্যটকদের মাঝে খাঁটি ব্রিটিশ-বাঙালি স্টাইলের এই চিকেন টিক্কার চাহিদা আকাশচুম্বী হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা ও পেশাদার ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে যদি এই উদ্যোগ নেওয়া যায়, তবে বিদেশের মতো আমাদের দেশ থেকেও অভাবনীয় ব্যবসায়িক সাফল্য ও প্রফিট অর্জন করা সম্ভব।
আজকের এই দিনে আমাদের সেই সমস্ত প্রবাসী বাঙালি রেস্টুরেন্ট মালিক ও শেফ ভাইদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা, যারা সুদূর প্রবাসে তিলে তিলে আমাদের দেশের নাম এবং রান্নার সুনাম বিশ্ব দরবারে উজ্জ্বল করে রেখেছেন।

