সত্যজিৎ দাস:
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পালের ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারসংক্রান্ত নীতিমালার সুস্পষ্ট কোনো লঙ্ঘন ঘটেছে বলেও মনে করছে না জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ।
তিনি জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বর্তমানে সিলেট সফরে থাকায় প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে তদন্ত কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রীও মন্তব্য করেছেন, গান গাওয়া বা ভিডিও তৈরি করা নিজেই কোনো অন্যায় নয়। ফলে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন আদৌ প্রয়োজন হবে কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
সাখাওয়াত এরশেদ বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেবল এটিই যাচাই করা হবে যে, প্রধান শিক্ষিকার কর্মকাণ্ডে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণবিধি অথবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশিকা লঙ্ঘিত হয়েছে কি না। প্রাথমিকভাবে তাদের কাছে এমন কোনো অনিয়ম বা বিধি লঙ্ঘনের বিষয় প্রতীয়মান হয়নি। তিনি বলেন, গান গাওয়া বা শিল্প-সংস্কৃতিচর্চা একটি স্বাভাবিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অংশ। তবে বিষয়টি বিস্তারিত পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরও জানান, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল মানসিকভাবে বিপর্যস্ত রয়েছেন।
এদিকে ভিডিওটি কেন্দ্র করে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ এনে গত ২৪ জুলাই ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বিউটি রাণী পাল। জিডিতে ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ এবং প্রবাসী আসিফ আহমদ ইকবাল হিরণের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুর রহমান।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিউটি রাণী পাল নিজের ফেসবুক আইডি থেকে কয়েক সেকেন্ডের একটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শাড়ি পরে একটি বাংলা গানের সঙ্গে তাঁর হাঁটার দৃশ্য নিয়ে তৈরি ভিডিওটি অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর এটি ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ সম্পর্কে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত আইনি বিষয়। প্রশাসনিক এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে এ ধরনের অভিযোগ তদন্ত করার সুযোগ শিক্ষা প্রশাসনের নেই।

