রাজধানী ঢাকা জুড়ে দেখা দেওয়া তীব্র গ্যাস সংকটের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নগরীর সার্বিক গণপরিবহন ব্যবস্থায়। সিএনজি পাম্পগুলোতে দীর্ঘসময় অপেক্ষার পরও পর্যাপ্ত চাপ (প্রেশার) না থাকায় রাস্তায় আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে গ্যাসে চালিত বাস, সিএনজি অটোরিকশা এবং রাইড শেয়ারিং অ্যাপের প্রাইভেট কারের সংখ্যা। ফলে প্রতিদিনের গন্তব্যে পৌঁছাতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ নগরবাসী। সুযোগ বুঝে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন সিএনজি ও উবার চালকেরা, আর বিকল্প হিসেবে মেট্রোরেলে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, বিমানবন্দর সড়ক, বনশ্রী, ডেমরা ও মিরপুরসহ প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে গণপরিবহনের এই চরম সংকটের চিত্র দেখা যায়।
বিভিন্ন রুটের গণপরিবহন কর্মচারীরা জানান, পাম্পগুলোতে সারারাত দাঁড়িয়ে থেকে সামান্য গ্যাস মেলায় অধিকাংশ চালক সকালে একটির বেশি ট্রিপ দিতে পারছেন না। অছিম পরিবহনের লাইন চেকার আব্বাস উদ্দিন জানান, তাদের ৫০টি বাসের প্রায় অর্ধেকই গ্যাসে চলে, যার বড় অংশই এখন অলস বসে রয়েছে। গুলশান, মিরপুর, গাবতলী ও সায়েন্সল্যাব রুটেও একই চিত্র দেখা গেছে। ফলে রাস্তায় বাস পেলেই তাতে উঠতে যাত্রীদের মধ্যে চরম হুড়োহুড়ি লেগে যাচ্ছে।
অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশা ও উবার-পাঠাওয়ের চুক্তিভিত্তিক চালকরা। ৪-৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র এক থেকে দেড়শ টাকার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, যা সামান্য পথ চলতেই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু চালকদের দৈনিক গ্যারেজ জমা ঠিকই গুণতে হচ্ছে। ঢাকার নিবন্ধিত অটোরিকশার অর্ধেকের বেশি এখন বন্ধ রয়েছে। আর সচল গাড়িগুলোর চালকরা দুই থেকে তিন গুণ ভাড়া দাবি করছেন। যেমন—বনশ্রী থেকে গুলশান-১ এর স্বাভাবিক ২০০ টাকার ভাড়া এখন হাঁকা হচ্ছে ৩০০ টাকা বা তারও বেশি।
তেলে চালিয়ে ট্রিপ দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মের চালকরাও এখন মারাত্মক আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন। পাম্পের চাপ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা মহানগরের যাত্রী ভোগান্তি কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

