রাজনৈতিক নাটকিয়তা ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে ছাড়তে যাচ্ছেন মো. সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার দুপুর নাগাদ তিনি স্পিকারের উদ্দেশ্যে লেখা পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠাবেন।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর অবস্থান নিয়ে যে বিতর্কের সূচনা হয়েছিল, দুই বছর পর এসে বিএনপি সরকারের আমলে তাঁর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে।বিএনপি সরকারের অবস্থান ও পদত্যাগের বার্তা ২০২৪ সালে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা ও অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ গ্রহণের স্বার্থে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি রাষ্ট্রপতির পদে মো. সাহাবুদ্দিনকে বহাল রাখার পক্ষেই সায় দিয়েছিল।
সে সময় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীসহ নানা রাজনৈতিক পক্ষ থেকে তাঁর অপসারণের জোর দাবি তোলা হলেও বিএনপি সাংবিধানিক স্থিতিশীলতাকে প্রাধান্য দেয়। তবে সম্প্রতি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সম্পর্কের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যায়।
জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারণী উচ্চপর্যায় থেকে তাঁকে মৌখিকভাবে সরে দাঁড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়। এর পেছনে শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি কিছু রাজনৈতিক ও গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদনেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

