স্টাফ রিপোর্টার:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বিক্রমপুর আদর্শ ডিগ্রী কলেজের নতুন পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতা, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর একাংশের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা কমিটি গঠনে স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হওয়ার অভিযোগ তুলে অধ্যক্ষকে তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় বিএনপির নেতারা কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে গিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের মতামত উপেক্ষা করে গোপনে সুবিধাজনকভাবে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, এতে কলেজের সুষ্ঠু পরিচালনা ও উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, পরিচালনা কমিটিতে স্থানীয়দের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়নি। তারা প্রশ্ন তোলেন, এলাকায় যোগ্য ও শিক্ষিত ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও অন্য এলাকার একজনকে কীভাবে সভাপতি করা হয়েছে। পাশাপাশি কলেজের বিভিন্ন কার্যক্রমে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের মতামত নেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মুন্সীগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ওয়াহিদুল বেপারী মঞ্জু অভিযোগ করেন, রাতের বেলায় কলেজ ক্যাম্পাস খোলা রাখা হয় এবং সেখানে খেলাধুলা, পিকনিকসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। এমনকি ক্যাম্পাসে অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বিষয়টি তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার দাবি জানান।
মুন্সীগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ছিদ্দিক মোল্লা বর্তমান পরিচালনা কমিটির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নতুন কমিটি গঠন করা উচিত।
বৈঠকে স্থানীয় বিএনপি নেতারা কলেজের অধ্যক্ষকে তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, এ সময়ের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুসারে গ্রহণযোগ্য নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে।
এ বিষয়ে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু বলেন, পরিচালনা কমিটি গঠনের বিষয়ে তার ব্যক্তিগত কোনো মন্তব্য নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ভোটার তালিকা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অধ্যক্ষের মাধ্যমে কমিটি গঠন ও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, একটি পক্ষ অযথা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে এবং কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওয়াহিদুর রহমান খান বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি বাতিল করার ক্ষমতা তার নেই; এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল কলেজের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন।

