ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন শুধু একটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়; এটি ভবিষ্যতের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, গবেষণা এবং জাতীয় প্রতিযোগিতা সক্ষমতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এআই-ভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এবং গবেষণা-উদ্ভাবনের পরিবেশ তৈরি করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সাভারের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ‘এআই গবেষণা ল্যাব’ এবং ‘এআই প্রজেক্ট কম্পিটিশন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক এআই গবেষণা ল্যাব শিক্ষার্থীদের গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জনের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এসব ল্যাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আধুনিক এআই প্রযুক্তিতে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি শিল্প-উপযোগী সমাধান ও উদ্ভাবনী প্রোটোটাইপ তৈরির সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, ব্যবসা ও প্রশাসনসহ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই এআই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে। তাই নতুন বাংলাদেশ গড়তে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিকল্প নেই।
ফকির মাহবুব আনাম আরও বলেন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে সরকারের ধারাবাহিক বিনিয়োগ দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করেছে। ভবিষ্যতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত ১৪৫টি এআই প্রকল্পের মধ্য থেকে সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলোকে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের স্টার্টআপ ফান্ডসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সম্প্রসারণ এবং স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সুবিধা বিস্তারে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল ইতোমধ্যে ‘এআই প্রফেসর’, ‘এআই প্রক্টর’ ও ‘এআই রেজিস্ট্রার’ নামে কয়েকটি প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরি করেছে। বর্তমানে তারা ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ প্রকল্প নিয়েও কাজ করছে।
অনুষ্ঠান শেষে ‘এআই প্রজেক্ট কম্পিটিশন-২০২৬’-এ অংশ নেওয়া ১৪৫টি প্রকল্পের মধ্য থেকে ছয়টি বিভাগে নির্বাচিত ১২টি বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মন্ত্রী।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আর. কবীর, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সামস ইকবাল, কম্পিউটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. সারওয়ার হোসেন মোল্লাসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

