ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার ভুবনেশ্বর নদীতে অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল ও আড়াআড়ি বাঁধের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে টাস্কফোর্সের অভিযান এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ তিনটি আড়াআড়ি বাঁধ, একটি ভেসেল এবং ৪০টি চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত জালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। পরে জব্দ করা জাল ও ভেসেল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপজেলার শিকদার বাড়ী ব্রিজ, মৌলভিরচর ব্রিজ ও লোহেরটেক ব্রিজ সংলগ্ন ভুবনেশ্বর নদীতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে নির্মিত আড়াআড়ি বাঁধ অপসারণ করা হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করার পাশাপাশি দেশীয় মাছের অবাধ বিচরণ ও প্রজননে বাধা সৃষ্টি করছিল।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাঈম হোসেন বিপ্লব। এছাড়া এসআই রিপনের নেতৃত্বে একটি চৌকস পুলিশ দল, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আনসার সদস্যরা অভিযানে অংশগ্রহণ করেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাঈম হোসেন বিপ্লব বলেন, “চায়না দুয়ারী জাল ও আড়াআড়ি বাঁধ দেশীয় মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব জালের মাধ্যমে রেণুপোনা, মা মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ে, ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হয় এবং নদীর জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে। নদী ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। অবৈধ জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন, “নদী আমাদের জাতীয় সম্পদ। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করবে না। চায়না দুয়ারী জাল, আড়াআড়ি বাঁধ এবং নিষিদ্ধ মাছ ধরার সরঞ্জামের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত চলবে। নদী রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভুবনেশ্বর নদীসহ চরভদ্রাসন উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল, আড়াআড়ি বাঁধ এবং নিষিদ্ধ মাছ ধরার সরঞ্জামের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে নদী ও দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় স্থানীয়দের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি যেকোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য প্রশাসনকে জানিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে

