মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা সংকটের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত চারটি তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মাঝপথ থেকেই ইউ-টার্ন নিয়ে ফিরে গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক নৌযান হামলা এবং ইরানের সঙ্গে যুক্ত নিরাপত্তা হুমকি বৃদ্ধির পর জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রুট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছে। ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় অনেক জাহাজই প্রণালিতে প্রবেশ না করে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করছে।
ফেরত যাওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে কাতারের তিনটি এলএনজি ট্যাংকার—Al Ghariya, Duhail এবং Al Ruwais—ছিল। এছাড়া ভারতীয় পতাকাবাহী অতি-বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ Lila Vadinar-ও হরমুজে প্রবেশের পরিকল্পনা বাতিল করে ফিরে যায়। অন্যদিকে কয়েকটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার নিরাপত্তা বিবেচনায় বিকল্প রুট অনুসরণ করে যাত্রা অব্যাহত রাখে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি পরিবাহিত হয়। ফলে এ নৌপথে সামান্য বিঘ্নও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে বীমা ব্যয় বৃদ্ধি, জাহাজ চলাচলে বিলম্ব এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে বৈশ্বিক তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য বলছে, কাতারের প্রধান এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্রের আশপাশে খালি ট্যাংকারের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক জাহাজই নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির অপেক্ষায় নোঙর করে রয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি পরিশোধনাগারও মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির নির্ধারিত চালান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
আন্তর্জাতিক শিপিং খাতের পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, যদি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হয়, তবে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও নতুন করে চাপে পড়তে পারে।

