জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ব্যবহৃত ধুপখোলা মাঠের জমির মালিকানা সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নেই বলে দাবি করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক। জমির বৈধ নথিপত্রের অভাবে মাঠটির উন্নয়ন কার্যক্রমও দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মাঠটি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (৬ জুলাই) জকসুর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মাঝে ফুটবল বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি ধুপখোলা মাঠের বিষয়ে জানতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে সিটি কর্পোরেশন থেকে জানানো হয়, মাঠটি তাদের নয় এবং এ-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রও তাদের কাছে নেই।
তিনি বলেন, “নির্বাচিত হওয়ার পরই আমি দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। তারা আমাদের জানিয়েছে, এই মাঠ তাদের নয়। তাদের কাছে এ মাঠের কোনো কাগজপত্রও নেই।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নজরে আনা হয়েছে। মাঠের মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র উদ্ধার করা গেলে উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলেও উপাচার্যকে অবহিত করা হয়েছে।
জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক বলেন, বিষয়টি জকসুর সভায় আলোচনা হয়েছে এবং সম্প্রতি উপাচার্যের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মাঠের কাগজপত্র উদ্ধার কিংবা মালিকানা নির্ধারণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
তিনি জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের বিভিন্ন জেলায় ফুটবল টার্ফ নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ধুপখোলা মাঠকেও এ ধরনের প্রকল্পের আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে জকসুর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
মাঠের মালিকানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ধুপখোলা মাঠ তিনটি অংশে বিভক্ত। এর একটি অংশ স্থানীয় বাসিন্দাদের, একটি অংশ ইস্টার্ন ক্লাবের এবং অপর একটি অংশ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বলে দাবি করা হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিকৃত অংশেরও কোনো মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র বর্তমানে তাদের হাতে নেই।
তিনি বলেন, “মাঠের কোনো বৈধ কাগজপত্র আমাদের কাছে নেই। ফলে আমরা এর আইনগত মালিকও নই। এ কারণে মাঠ উন্নয়নের জন্য মাটি ভরাট, বালু ফেলা কিংবা অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজ করতে পারছি না।”
উল্লেখ্য তিনি প্রত্যাশা করেন, মাঠের মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উদ্ধার করা গেলে ধুপখোলা মাঠের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

